লতা-পাতায় ঘিরেছে সরকারি কলেজ ছাত্রাবাস : সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের

page---01বিশেষ প্রতিবেদক : সিলেট সরকারী কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসটি আগুনে পোড়ানো ছাত্রাবাসটির লতাপাতায় ছেলে গেছে। খসে পরেছে পলেস্তর। ব্যবহার উপযোগী হচ্ছে দিনদিন। ছয় বছরে ক্রমেই এটি জীর্ণ হতে চললেও এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি চালু না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থীরা। তারা আবাসন সমস্যাসহ শিক্ষা কার্যক্রমে ভুগছেন সমস্যায়।
২০১০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিবির তাড়ানোর নামে ছাত্রাবাসে হামলা করে ছাত্রলীগ। ছাত্রাবাসের দখল নিতে গিয়ে একপর্যায়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে পরিত্যক্ত, সংস্কারহীনভাবে পড়ে আছে ছাত্রাবাসটি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩ তলা ভবনের মূল ফটকটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভেতর ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। দেয়ালে জন্মেছে ঘাস, লতাÑপাতা। উত্তরÑপূর্ব দিকের ব্লক ঘুরে দেখা যায়, অনেক কক্ষের পলেস্তর খসে পড়েছে। ভাংচুরকৃত ও অগ্নিদগ্ধ দরজা জানালা সংস্কারহীনভাবে পড়ে আছে। তার দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে দরজাগুলো। দক্ষিণ দিকের ব্লকেরও জীর্ণদশা। ভেতরে বাইরে জঙ্গলে পরিপূর্ণ। পলেস্তর খসে যাওয়াসহ নষ্ট হয়ে গেছে অনেক রুমের দরজা জানালা। ভাংচুরের ক্ষত চিহ্ণ এখনও দৃশ্যমান। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ছাত্রাবাসের বাথরুমগুলোও।
কয়েকজন ছাত্র বলেন, ছাত্রাবাসটি চালু না হওয়ায়, তারা সমস্যায় ভোগছেন। দূরদূরান্ত থেকে আগত অনেক শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। শহরে পর্যাপ্ত মেস না থাকা এবং অনেকে ব্যাচলর ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীরা ্আবাসন সমস্যায় ভুগছেন। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে মেসে থেকে মিলছে না লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ। আবাসন সমস্যার দরুণ অনেকে ক্লাস করতে পারছেন না নিয়মিত।
সিলেট সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল আশফাক আহমদের কাছে ছাত্রাবাস খোলার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই বিষয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ইফতেখার আহমদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ইফতেখার আহমদ বলেন, ছাত্রাবাসটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।

শেয়ার করুন