বুধবারের হরতাল প্রত্যাহার

Hartal-medium20160112143728সিলেটের সকাল ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র নিহতের প্রতিবাদে ডাকা বুধবারের হরতাল প্রত্যাহার করেছেন মাদ্রাসার ওলামারা।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদশ (ডিআইজি) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সাজিদুর রহমান হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ, ১২ বডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ১৪-এর অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের দাবি অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রত্যাহার এবং দায়ীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবারের হরতাল প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, জেলা পুলিশের পক্ষে থেকে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে সহকারী সুপার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্রায় নয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেল পথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমের মালিক রনির সঙ্গে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার (বড় মাদ্রাসা) এক ছাত্রের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বাধে। পরে এতে ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী যোগ দেয়। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। চার ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, আজ ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমানের (২২)। তাঁর গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সামন্তঘর গ্রামে।

সোমবার রাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে মাসুদুর রহমানকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এই অভিযোগ তুলে ছাত্ররা আজ ভোরে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা বেশ কিছু স্থানে ভাঙচুর করে বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ সময় শহরের টিএ রোড এলাকা ও ব্রিজের মোড় এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেই দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রেলস্টেশন অবরোধ করে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ছাত্ররা। তারা রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নয় ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুপুরে বিক্ষোভকারীরা শহরের আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন ভাঙচুর করে এর বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়া, শিশু নাট্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়।

বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার সামনে সেতুর ওপর পুলিশের একটি ভাড়া করা পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

শেয়ার করুন