বিশ্ব ইজতেমা শুরু শুক্রবার : সিলেট ১৬-১৭ খিত্তায়

biswa-ijtema_3সিলেটের সকাল : সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব।

দেশ-বিদেশ থেকে এরই মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন ইজতেমা মাঠে। আগামীকাল শুক্রবার ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়ে শেষ হবে ১০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। আর চার দিন বিরতি দিয়ে দুই পর্বের এই ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি থেকে।

ইজতেমা ময়দানের ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের খুঁটিতে নম্বরপ্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, হালকা নম্বর বসানোর কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

সুস্পষ্টভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক প্রায় সাড়ে ৩ শ বিশেষ মাইক বসানো হয়েছে। কোনোরকম বৈষয়িক লাভের আশা না করে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীনের মেহনত করে ইজতেমা ময়দানে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের জন্য খোলা রাখা হয়েছে ১৮টি পথ। অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে তুরাগ নদে ৮টি ভাসমান সেতুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে পুলিশের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। প্রথম পর্বে ১৭টি জেলার মুসল্লিরা ২৭টি খিত্তায় অবস্থান করবেন। এ ছাড়া মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি মেহমানদের জন্য রয়েছে আলাদা খিত্তা।

মুসল্লিদের অবস্থান: প্রথম পর্বে ১৭ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। এগুলো হল- ঢাকা জেলা (খিত্তা নম্বর ১-৬), শেরপুর (৭), নারায়ণগঞ্জ (৮ ও ১১) নীলফামারী (৯), সিরাজগঞ্জ (১০), নাটোর (১২), গাইবান্ধা (১৩), লক্ষ্মীপুর (১৪ ও ১৫), সিলেট (১৬ ও ১৭), চট্টগ্রাম (১৮ ও ১৯), নড়াইল (২০), মাদারীপুর (২১), ভোলা (২২ ও ২৩), মাগুরা (২৪), পটুয়াখালী (২৫), ঝালকাঠি (২৬) এবং পঞ্চগড় (২৭ নং খিত্তা)।

ইজতেমা উপলক্ষে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ময়দান ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

র‍্যাব ১৮ প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৬০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়েছে। সংস্থাটি আটটি ও পুলিশ পাঁচটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসিয়েছে। ১৬টি গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের ১২০ সদস্য সতর্ক রয়েছেন।

বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য ২৮টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ২০টি কোচ সংযোজন করা হবে। সব মিলিয়ে বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে দেড় লাখ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হবে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। টঙ্গী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়াও টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেবে।

শেয়ার করুন