ফেব্রুয়ারিতেই বাড়ছে রেলের ভাড়া

Trean-Bichinno-02-newsnextbdসিলেটের সকাল ডেস্ক : রেলের ভাড়া সর্বোচ্চ ৭.৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিসাপেক্ষে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে।

রাজধানীর রেলভবনে ওয়াইফাই সার্ভিসের উদ্বোধন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ সচিব মো. ফিরোজ সালাহউদ্দিন এমন মন্তব্য করেন। এখন থেকে প্রতিবছর কম-বেশি রেলের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফিরোজ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দিনের পর দিন রেল লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর পরিমাণ বর্তমানে প্রায় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই রেলের ভাড়া কম। অন্যান্য যানবাহনে নিয়মিতভাবে ভাড়া বাড়ানো হলেও রেলের ভাড়া বাড়েনি। ১৯৯২ সালে রেলে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০১২ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানো হয়।’

রেলপথ সচিব বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে একটা ফরমূলা আনতে চাচ্ছি আমরা। কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ বিবেচনায় প্রত্যেক বছরই ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে নিম্নবিত্ত যাত্রীদের ভাড়া খুব কমই বাড়ানো হবে। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি তাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ভাড়া বাড়বে। একই হারে ন্যূনতম পাঁচ টাকা ভাড়া বাড়বে।’

যাত্রীদের ভাড়া না বাড়িয়ে অন্যভাবে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যায় কী না— জানতে চাইলে সাংবাদিকদের রেলপথ সচিব বলেন, ‘এটা ঠিক; প্রস্তাবিত হারে ভাড়া বাড়লে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ কোটি টাকা আয় হবে। বাকি টাকার সংস্থানে আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা কন্টিনার পরিবহনে গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সার পরিবহনের পাশাপাশি রেল খাদ্যপণ্যও পরিবহন করবে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ভাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ভাড়া বাড়লেও তা সহনশীল পর্যায়ে থাকবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

ভাড়া বৃদ্ধির এ উদ্যোগ কেন— জানতে চাইলে মুজিবুল হক বলেন, ‘যাত্রীসেবার মান বাড়াতেই ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি দিলে ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।’

রেল ভবনে ওয়াইফাই সার্ভিসের উদ্বোধন ঘোষণার আগে দেওয়া বক্তব্যে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সরকারি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা এবং সেবা প্রদানে ব্যাপক উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৬২টি বড় স্টেশনে কম্পিউটারাইজড টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কমলাপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা রেল স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে পারছেন যাত্রীরা।’ অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন