পর্যটকে মুখর সিলেটে

ba3c09ac8a58dae58b5ac12d12342094-09সিলেটের সকাল : সবুজ পাহাড়, ঝরনা, নদী, হাওর, পরিযায়ী পাখি ও মনোমুগ্ধকর একশত ৩৮টি চা-বাগান রয়েছে সিলেটে। এর ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে সৌন্দর্য আর সম্পদ। সিলেটকে বলা হয় ‘রূপের রাণী’। তাই সিলেট দেখতে সারা বছর ভিড় লেগেই থাকে পর্যটকদের। এবারও শীতে সিলেটে ছুটে এসেছেন হাজার হাজার পর্যটক।

সিলেটের হোটেল-গেস্ট হাউসে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কেউ ছুটছেন জাফলং-তামাবিল সড়ক হয়ে ভারতের শিলং। আবার কেউ যাচ্ছেন জৈন্তা, রাজবাড়ী, পান্থুমাই, লালাখাল, জাফলং, মাধবকুন্ড, হাকালুকি, টাঙ্গুয়ার হাওর, বারাক্কি টিলাসহ নানা স্থানে। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত আর চা বাগান, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান ও বিভিন্ন হাওর পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখরিত।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার হিসেবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠেছে সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। তবে সিলেটকে পর্যটন নগরী ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিন থেকেই উপেক্ষিত হয়ে আসছে। ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথাযথ সংস্কার, তথ্য সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে সিলেটের পর্যটন খাত আজও অবহেলার শিকার বলে বলছেন পর্যটকরা।

সিলেটের জকিগঞ্জে তিন নদী সুরমা-কুশিয়ারা-বরাক মোহনার নয়নাভিরাম দৃশ্য। বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ঘুরপাক খাচ্ছে তাহিরপুরের পর্যটন শিল্প। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের কোন সুখবর নেই। অথচ টাংগুয়ার হাওর, বারেকটিলায় দেশের বিভিন স্থানের পর্যটক আসছেন সারা বছরই। এখানে পর্যটন কেন্দ্র বাস্তবায়ন হলে সরকার যেমন লাভবান হবে, সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। সিলেটে পর্যটনের অপার  সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সিলেটের সনাক সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরীসহ সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

পর্যটন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, পর্যটক বাড়লেও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে যেসব সুবিধা থাকা প্রয়োজন সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। তবে সিলেটকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই সিলেটের পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানো হবে।

শেয়ার করুন