‘নিরবেই’ মাঠে গড়াচ্ছে সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ

u19 logo bdস্পোর্টস রিপোর্টার : ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোন ম্যাচ ছিল না সিলেট ভেন্যুতে। কিন্তু তার পরও সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমীক দশর্কদেরকে স্টেডিয়াম বিমুখ করতে পারেনি। প্রতিটি ম্যাচে মাঠে গিয়ে অতিথি দলকে তারা উৎসাহ দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেমন প্রচারণা ছিল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার বেশ কয়েক দিন থেকে  দু’বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।

সিলেটের মাঠে খেলা, আর কেউ জানবে না? তা হতে পারে না। তোরণ, পোস্টার আর মাইকিংয়ে মুখর হয়ে উঠে গোটা নগরী। সপ্তাহ-দশদিন আগে থেকেই সবার মাঝে শুরু হয় তোরজোড়। টিকিট সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে যাওয়া-আসাসহ সব বিষয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে দেখা যায় উচ্ছাস। কিন্তু না, গত ক’দিনে নগরীতে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ‘নিরুত্তাপ’ সিলেট ভেন্যুর খেলা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বুধবার স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সাউথ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের আসর।

সিলেটের ২টি ভেন্যু নগরীর রিকাবীবাজারস্থ জেলা স্টেডিয়াম ও লাক্কাতুরাস্থ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারের আসরের ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। একই দিন জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা ও কানাডর ম্যাচ।

এরপর আগামী শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এবং জেলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও কানাডা পরস্পরের মোকাবেলা করবে।

আগামী সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান ও কানাডার যুবাদের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এবারের যুব বিশ্বকাপ আসরের সিলেট ভেন্যুর খেলা।

সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই দর্শকদের বাধভাঙ্গা উচ্ছাস। যেন গোটা নগরী উৎসবে মেতে উঠে। কিন্তু আইসিসি যুব বিশ্বকাপে সিলেটে এই উচ্ছাস-উৎসব চোখে পড়ছে না। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির তত্ত্বাবধানে হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গণের কাছ থেকেও পাওয়া যায়নি উল্লেখযোগ্য কোন সাড়া। অনেকটা নিরবেই শুরু হচ্ছে যুব বিশ্বকাপের এবারের আসরের সিলেট ভেন্যুর ম্যাচ।

প্রচার-প্রচারণাবিহীন সিলেট ভেন্যুর ম্যাচ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইসিসির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা ইতোমধ্যে সকল ‘নিরব’ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ হতেও নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশসহ র‌্যাব, বিজিবির পক্ষ হতে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান, সিলেটের দুটি ভেন্যুতে ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের টিকিট বিক্রি আজ বুধবার শুরু হবে। প্রতিটি ম্যাচের টিকিট আগের দিনে স্টেডিয়ামের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। তবে ম্যাচের দিন কোন টিকিট বিক্রি করা হবে না। টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা।

তিনি জানান, ইতোমধ্যেই সিলেটে এসে পৌছেছে দলগুলো।মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ক্রিকেট দল বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এবং কানাডা দল বেলা আড়াইটা থেকে জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে। তবে শ্রীলঙ্কা দল তাদের অনুশীলন বাতিল করেছে।

সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক ফরহাদ কোরেশী জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নভো এয়ার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জার্তিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। এরপর শ্রীলঙ্কা ও কানাডা ক্রিকেট দল ইউএস বাংলা এয়ারের একটি ফ্লাইটে বেলা ১টা ২৫ মিনিটে সিলেটে এসে পৌঁছায়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ জানান, নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনরূপ ছাড় দেয়া হবে না। দুই হাজারেরও বেশী পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছেন। মাইন সোয়পিং মেশিনের মাধ্যমে মাঠ ও মাঠের আশপাশ এলাকায় তল্লাশী চালানো হয়েছে। সাথে রয়েছে র‌্যাবের বিশেষজ্ঞ দল ও বিজিবি’র ডগ স্কোয়াড।

শেয়ার করুন