দেশের উন্নয়নে সিলেটের ভূমিকা অনস্বীকার্য : ড. ফরাসউদ্দিন

Seminar Contribution of Sylhet 1সিলেটের সকাল : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের অবয়ব অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বের মাঝে কী করে একটি উন্নয়নের মডেল হওয়া যায় তা করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এদেশ থেকে হত দরিদ্রদের সংখ্যা কমে যাওয়ার সাথে সাথে খাদ্যে স্বনির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। একটি দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে গেলে মানুষের গড় আয়ু ও শিক্ষা-দীক্ষার প্রসার লাভ হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এশিয়ার অনেক দেশ তথা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ইত্যাদি আমাদের নিচে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে। দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর উদ্যোগে ‘দ্রুত অগ্রগতির সোপানে বাংলাদেশ: সিলেটের ভুমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম আলোর সহযোগীতায় দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর কনফারেন্স হল রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আরো বলেন, এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর শিক্ষার অর্জন হয়েছে সকলের প্রচেষ্ঠার ফলে। আমাদের প্রাইমারী লেভেলে ভর্তির হার শতকরা প্রায় শতভাগ। ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়েদের রেকর্ড আগের চেয়ে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পিছনে সিলেটবাসীর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। সিলেটের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাংলাদেশ বৈদেশিক মূদ্রা আহরণে বিশ্বে ৭ম অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, একটি দেশকে টেকসই ও উন্নয়নের পথে নিতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে শিল্পায়নের দিকেও খুব বেশি নজর দিতে হবে। বস্ত্রখাতে প্রবাসী উদ্যোক্তাদেরকে নিয়ে বড় বড় মিল কারখানা চালু করতে হবে। এতে করে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মামুন কিবরিয়া সুমন, সাবেক সভাপতি এম এ মুমিন, এম এ ছালাম চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, ওমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোসলেম উদ্দিন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল আহমদ, প্রবাসী উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বাসন, প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট এমাদ উল্লাহ্ শহিদুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিলেট চেম্বারের প্রাক্তন সিনিয়র সহ সভাপতি নাছিম হোসেইন, প্রাক্তন পরিচালক এম এ মান্নান, সাংবাদিক আব্দুল মালিক জাকা প্রমুখ। সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ ওয়াহিদ্জ্জুামান ভুট্টোর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচীত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালক এবং সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সম্মাননা প্রদান সাব কমিটির আহবায়ক মুকির হোসেন চৌধুরী।

এডভোকেট সুলতানা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত কর্তব্যনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী। বিশেষ করে বাংলাদেশের নারী সমাজ দেশের পোশাক শিল্প, কৃষি খাত সহ অন্যান্য খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশের অগ্রগতির সকল ক্ষেত্রে নারীরা স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে যে ভূমিকা রাখছেন তা বিশ্বের অনেক দেশের জন্য আদর্শ। তিনি সিলেটের নারীদেরকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আশ্চর্যজনক। কারণ শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুত উন্নতি সাধন করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সিলেটের অবদান সম্পর্কে তিনি বলেন, সিলেটের গ্যাস, চা, রেমিটেন্স, পর্যটন ইত্যাদি খাত বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো তরান্বিত করতে সরকারের সকল পর্যায়ে দূর্নীতি হ্রাস করা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে সিলেটের অবদান বাড়ানো ও পর্যটন খাতে সিলেটকে এগিয়ে নিতে ড. ফরাসউদ্দিন আহমদ ও এডভোকেট সুলতানা কামাল-কে নিয়ে সিলেট চেম্বারের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন এবং এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণার লক্ষ্যে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট চেম্বার অনেকগুলো বিদেশী প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় করেছে এবং সিলেটে স্থাপিতব্য স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদেরকে আহবান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন খাতে সিলেটের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বেসরকারী উদ্যোগে সিলেটে বর্তমানে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও রিসোর্ট স্থাপিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত সিলেটের দর্শণীয় স্থান সমূহকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা। তিনি সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, বিনিয়োগ বোর্ডের উপ পরিচালক মোঃ ফখরুল ইসলাম, ইপিবি’র উপ পরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম মোঃ মোবারক হোসেন, সোনালী ব্যাংকের জিএম কানিজ ফাতেমা চৌধুরী, জনতা ব্যাংকের ডিজিএম মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, বিসিকের ডিজিএম মহসিন কবির খান, শাবিপ্রবির এসিসটেন্ট প্রফেসর ফজলে এলাহী মোঃ ফয়সল, লিডিং ইউনিভার্সিটির এসিসটেন্ট প্রফেসর সুশান্ত আচার্য্য, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, খন্দকার সিপার আহমদ, জিয়াউল হক, মোঃ সাহিদুর রহমান, মোঃ লায়েছ উদ্দিন, আবু তাহের মোঃ শোয়েব, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মোঃ এমদাদ হোসেন, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, মোঃ বশিরুল হক, প্রাক্তন সহ সভাপতি মঞ্জুর আহমদ, প্রাক্তন পরিচালক এ টি এম মোশাহিদ উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ, আজিজুর রহমান সুন্দর, সিদ্দিকুর রহমান, মুজিবুর রহমান স্বাধীন, শহিদ আহমদ চৌধুরী, আব্দুল মালিক মারুফ, জয়নুল আকতার চৌধুরী, এহসানুল হক তাহের, মিনারা বেগম, সমীর লাল দেব, হাবিবুর রহমান খান, মোঃ আবুল কালাম, কিবরিয়া হোসেন নিঝুম, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ আসাদুজ্জামান, কবির দে, আতাউর রহমান, সালেহ্ আহমদ, তাইয়্যিব খান লামীম, শেখ কাওছারুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন প্রেস ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন