দুর্বলতা পর্যালোচনা করছে বিএনপি

bnpসিলেটের সকাল ডেস্ক : নানা শঙ্কার মধ্যেই দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল। কিন্তু ভোটের ফলাফলে ভূমিধস পরাজয় বরণ করতে হয়েছে প্রধান বিরোধী এই জোটকে। ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র ২২টি পৌরসভায় বিজয়ী হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। তবে ভোট শেষে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বুধবার রাতে জোট ও দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রথমে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি। পরে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা আলাদা বৈঠক করেন বিএনপি  চেয়ারপারসন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ধানের শীষের প্রার্থীদের ভূমিধস পরাজয়ের কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বমূলক ভূমিকা বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে তুলে ধরেন নেতারা। আলোচনা একপর্যায়ে দলটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) দের দিয়ে পৌর নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করিয়েছেন। তারা প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছেন- নৌকা প্রতীকে ভোট তাদের সামনেই দিতে বাধ্য করার জন্য। প্রশাসন নির্লজ্জভাবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য বিএনপির ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। নির্বাচন কমিশন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। প্রশাসনের লোকজনই নির্বাচন তদারকি করেছে। একপর্যায়ে বিএনপি সম্পাদক মণ্ডলীর এক নেতা বলেন, নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় শুধু নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর চাপিয়ে লাভ নেই। আমাদের দলের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো খুঁজে বের করতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ে অনেক জায়গায় অদূরদর্শিতা ছিল। দুর্বল প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পেরে উঠেননি।  শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে সরকার সমর্থকদের কেন্দ্র দখল ঠেকাতে পারেননি। এ ছাড়া সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ভোটের দিন সমন্বয়ের কিছুটা অভাব ছিল। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারণায় পিছিয়ে ছিল। শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতারা কিছু কিছু এলাকায় প্রচারণা চালালেও মধ্যম সারির নেতারা মাঠে নামেননি। শুরু থেকে আরও ভালোভাবে প্রচারণা চালালে ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তো। এদিকে দলটির কেন্দ্রীয় আরেক নেতা জানিয়েছেন, পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাইয়ে অভিযোগে ৩রা কিংবা ৪ঠা জানুয়ারি সারা দেশে শান্তিপূর্ণ একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়া হবে। হয়তো মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন কিংবা বিক্ষোভ হতে পারে। ওদিকে জোটের বৈঠকে শরিক দলের এক শীর্ষ নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সামনে ২০ দলের বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যেমন পুনর্গঠন চলছে, একইভাবে ২০ দলেরও পুনর্গঠন প্রয়োজন। কারণ রাজপথে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হলে জোটের শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জোটকেও কার্যকরী করে তুলতে হবে। জোটের বৈঠকে মাত্র ৮টি দলের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ কয়েকটি শরিক দল জোটের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে। তাই কার্যকর জোট গড়তে না পারলে ভবিষ্যতে আন্দোলন-কর্মসূচিগুলোতে সুফল আসবে না। তবে ওই জোট নেতার বক্তব্য চুপচাপ শোনেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। পৌর নির্বাচনে ব্যর্থতার বিষয়ে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মানবজমিনকে বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপিকে হারানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে ঘাড়ে চড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে বিএনপি লাভবান হয়েছে। মামলা-হামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের কারণে অনেক সক্রিয় নেতা এলাকায় প্রকাশ্যে যেতে পারতেন না। তারা অনেকটা আতঙ্কের মধ্য আবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের আমরা বের করে নিয়ে আসতে পেরেছি। এলাকায় প্রকাশ্যে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন তারা।  নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে যুবদলের এই সভাপতি বলেন, বিএনপির অনেক সক্রিয় নেতা কারাগারে, অনেকে মামলার হুলিয়া নিয়ে আত্মগোপনে আছেন। ওই সব সক্রিয় নেতা মাঠে থাকলে হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মতো সরকার দলের কেন্দ্র ঠেকানো সম্ভব হতো। আগামীতে এই সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি।

শেয়ার করুন