জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে শমিউল সভাপতি, আশরাফ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

Eসিলেটের সকাল রিপোর্ট : উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন। ২০১৬ সালের জন্য এই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ব্যবধানে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট একেএম শমিউল আলম। আর সাধারণ সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে মাত্র ২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এডভোকেট শাহ আশরাফুল ইসলাম।

রাতব্যাপী ভোট গণনা শেষে শুক্রবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে বেসরকারী ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেট জেলা বার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৩৬৬ জন। এর মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির ১০৬৪ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী এডভোকেট একেএম শমিউল আলম রেকর্ড সংখ্যক ৮৩০ ভোট পেয়েছেন। আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি এডভোকেট আখতার হোসেন খান পেয়েছেন ২১৪ ভোট।

এছাড়া সহ সভাপতি-১ পদে নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট অশেষ কর। তিনি পেয়েছেন ৫৯৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি এডভোকেট আকতার বক্স জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৩৯৭ ভোট।

সহ সভাপতি-২ পদে এডভোকেট ওলি উল্লাহ মারুফ ৩৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এডভোকেট জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩২১ ভোট। এই পদের অপর প্রার্থী এডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ২৮৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মোট ৫ জন। এ পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট শাহ আশরাফুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এডভোকেট ফজলুল হক সেলিম পেয়েছেন ২৪৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে অন্য ৩ প্রার্থী ও তাদের ভোট সংখ্যা যথাক্রমে- এডভোকেট হোসেন আহমদ (২৩০), এডভোকেট বেলাল উদ্দিন (২১৫) ও এডভোকেট কামাল হোসেন (১০৬)।

যুগ্ম সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন এডভোকেট জুবায়ের বখত জুবের। তিনি পেয়েছেন ৩৪৮ ভোট। এই পদে অন্য ৩ প্রার্থী ও তাদের ভোট সংখ্যা, যথাক্রমে- এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩৪৪), এডভোকেট জোহরা জেসমিন (২৭০) ও এডভোকেট ফজলুল হক (৭১)।

সহ সম্পাদক ২টি পদে এডভোকেট আহমেদ ওবায়দুর রহমান ফাহমি ও এডভোকেট জয়নুল হোসেন রুবেল বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে এডভোকেট আহমেদ ওবায়দুর রহমান ফাহমি পেয়েছেন ৭৫৪ ভোট। আর এডভোকেট জয়নুল হোসেন রুবেল ৪৪০ ভোট। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বি অন্য ২ প্রার্থী ও তাদের ভোট সংখ্যা যথাক্রমে এডভোকেট ইমরান আহমদ (৪৩৮) ও এডভোকেট সাহেদ আহমদ (১২৬)।

নির্বাচন কর্মকর্তা পদে মো. কামরুজ্জামান ৪৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই পদের অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে এডভোকেট মাহবুব হোসেন ২৯১ ভোট ও এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ২৬১ ভোট পেয়েছেন।

সমাজ বিষয়ক সম্পাদক পদে এডভোকেট আজাদ আহমদ ৪৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ২ প্রার্থীর মধ্যে এডভোকেট খালেদ আহমদ জুবায়ের ২৭৫ ভোট ও এডভোকেট মাছুম আহমদ ২৬৪ ভোট পেয়েছেন।

লাইব্রেরী সম্পাদক পদে এডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৪১৪। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এডভোকেট বিদ্যুৎ কুমার দাস বাপন ৩৯৬ ও এডভোকেট মাশহুদ আহমদ মহসিন ২২২ ভোট পেয়েছেন।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে ১১টি পদের জন্য মোট ১৯ জন সিনিয়র আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে নির্বাচিত ১১ জন ও তাদের ভোট সংখ্যা যথাক্রমে- এডভোকেট আজিজুর রহমান (৭৬৮), এডভোকেট জেবুন্নাহার সেলিম (৭৪৬), এডভোকেট মনির উদ্দিন (৭১২), এডভোকেট জ্যোতির্ময় পুরকায়স্থ কাঞ্চন (৬০৬), এডভোকেট আক্তার উদ্দিন আহমদ টিটু (৫৫৩), এডভোকেট এখলাছুর রহমান (৫৪৬), এডভোকেট দিলীপ কুমার দাশ চৌধুরী (৫৩১), এডভোকেট শামীম আহমদ সিদ্দিকী (৫১৩), এডভোকেট সুজিত কুমার বৈদ্য (৪৯৪), এডভোকেট আলীম উদ্দিন (৪৮৬) ও এডভোকেট ওবায়দুল (৪৮০ ভোট পেয়েছেন।

কার্যকরী সদস্য পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য প্রার্থীদের নাম ও ভোট সংখ্যা হলো- এডভোকেট আহমদ আলী (৪৭৬), এডভোকেট আত্তর আলী (৪৪৯), এডভোকেট সিরাজুল হক (৪২৯), এডভোকেট মহিউদ্দিন (৪২৬), এডভোকেট মামুন আহমদ শিকদার (৩৪৯), এডভোকেট মুজিবুর রহমান (৩০০) ও এডভোকেট তাজুল ইসলাম (২৫১)।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি, আইনপেশায় অর্ধ শতাব্দি পূর্ণকারী সিনিয়র এডভোকেট ফারুক চৌধুরীর ভোটদানের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। নির্বাচন উপলক্ষে আদালত পাড়ায় ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। ২নং বার লাইব্রেরী হলের দোতলায় স্থাপিত বুথে ভোট গ্রহণ করা হয় বিরতিহীনভাবে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানস্থল নবীন প্রবীণ আইনজীবীদের পদচারণায় মুখরিত। সিলেট জেলা বার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির বিপুল সংখ্যক সদস্য আসেন ভোট দিতে। বয়সের কারণে আইনপেশায় অনিয়মিত হয়ে পড়া প্রবীণ অনেক আইনজীবীও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আসেন আদালত পাড়ায়। সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন আদালতের বিচারকবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও দিনব্যাপী এ নির্বাচন পরিদর্শন করেন।

ভোট গ্রহণ শেষে রাত পৌণে ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনাকালে জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং সিনিয়র-জুনিয়র কয়েক শ’ আইনজীবী বিপুল উৎসাহে উপভোগ করেন ভোট গণনা কার্যক্রম। প্রতি এক শ’ ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী বুলেটিন প্রচার করা হলে উপস্থিত সদস্যরা করতালির মাধ্যমে ফলাফল স্বাগত জানান। এরপর সর্বশেষশুক্রবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ভোটগণণা শেষ হলে বেসরকারী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন