ছাতকের চুন শিল্পের ভাগ্যাকাশে আবারো অশনি সংকেত !!

Cha--1-1গ্যাসের নুন্যতম চার্জের নামে গুনতে হচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকা
ছাতক(সুনামগঞ্জ)থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ  ভারত থেকে চুনাপাথর রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় ছাতকের ঐতিহ্যবাহী চুনশিল্প পড়েছে হুমকির মুখে। দেশের অতি প্রাচীন চুন ব্যবসা যুগ-যুগ ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে টিকে রয়েছে এখনো। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে ভারত কর্তৃক চুনাপাথর রপ্তানী বন্ধ করে দিলে চুন শিল্পের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় অশনি সংকেত। চুন ব্যবসায়িদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা।

একদিকে চুন ব্যবসা পড়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে অন্যদিকে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে গ্যাস বিলের নুন্যতম চার্জ পরিশোধ। চুন উৎপাদনের কাঁচামাল চুনাপাথর প্রাপ্তিতে সংকট, উৎপাদিত চুন বিপননে বিভিন্ন প্রতিকুলতার কারনে কোন কোন চুন কারখানা মাসাধিককাল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকগন।

এক্ষেত্রে সাময়িক বন্ধ থাকা কারখানাগুলো গ্যাস ব্যবহার না করেও নুন্যতম চার্জের নামে চুন কারখানা মালিকদের কয়েক লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। গ্যাস ব্যবহার না করে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা নুন্যতম চার্জ হিসেবে পরিশোধের বিষয়টি পেট্রোবাংলার অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন চুন উৎপাদন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ভ্রাম্যমান কর মেলা পরিদর্শনে সম্প্রতি ছাতকে এলে তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে চুন ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দরা জানান।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো ছাতকের চুন উৎপাদনের একমাত্র কাঁচামাল চুনাপাথর ভারত থেকেই সংগৃহিত হয়ে আসছে। ভারতের মেঘালয়ের হাইকোর্ট একটি রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ‘মাইন বিষ্ফোরনের’ উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে মেঘালয়ের ফরেষ্ট বিভাগ গত বছরের ৩০জুলাই থেকে বাংলাদেশে চুনাপাথর রপ্তানী বন্ধ করে দেয়। চুনাপাথর প্রাপ্তিতে চরম সংকটের কারনে চুন কারখানাগুলো পর্যাপ্ত পরিমান চুন উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি চুন কারখানার উৎপাদন। এক্ষেত্রে গ্যাস ব্যবহার না করেই নুন্যতম চার্জের নামে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা পরিশোধ করা চুন কারখানা মালিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চুন শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাংক লোনের বিপরীতে সুদ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছেন চুন কারখানা মালিকগন। চুন উৎপাদন মালিক সমিতির সভাপতি রাকিব মিয়া চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ছালিক মিয়া তালুকদার জানান, চুন একটি বহুবিধ কাজে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় রাসায়নিক দ্রব্য। চিনিকল, পেপার মিল, সিমেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন কল-কারখানা, ট্যানারি ও চিংড়ি চাষের ঘের, দালান রংয়ের কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুনের ব্যবহার অপরিহার্য। চুন শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে গ্যাসের নুন্যতম চার্র্জের পরিবর্তে গ্যাস ব্যবহারের উপর মিটার রিডিংয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পদ্ধতি চালু করার দাবী জানান তারা। অন্যথায় অচিরেই চুন শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেছেন। চুন শিল্প রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শেয়ার করুন