কোম্পানীগঞ্জে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যু

imagesকোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি॥কোম্পানীগঞ্জের ইছাকলস ইউনিয়নের শিলাকুড়ি জলমহাল নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মইনুল হক (৬৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মুখলিছ (৪০) নামের একজনকে আটক করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এর আগে গত সোমবার নিহতের ছেলে সুরুজ আলী বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৯। মামলায় শিলাকুড়ি গ্রামের হাবিবকে (৩০) প্রধান আসামী করা হয়েছে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিলাকুড়ি বিলের জলমহাল ১৪২২ থেকে ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য সরকার ইজারা প্রদান করেন। উপজেলার বিলাজুর হিন্দু কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ওই ইজারা গ্রহণ করে। সমিতির সভাপতি মানিক বিশ^াস জলমহালটি দেখাশুনা করার জন্য শিলাকুড়ি গ্রামের মইনুল হকের ছেলে সুরুজ আলীকে নিয়োগ করেন। এরপর থেকে বিলের পার্শ্ববর্তী শিলাকুড়ি গ্রামের হাবিব (৩০), মখলিছ (৪০) ও নিয়ামত আলী (৬০) এর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী জলমহালে অবৈধ জাল দিয়ে জোরপূর্বক মাছ নিধন করে আসছে। এতে বাঁধা দিলে সুরুজ আলী ও তার পরিবারের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয় বিবাদীদের। এরই জের ধরে গত রোববার সকালে বিলে বাঁধ দেয়াকে কেন্দ্র করে নিয়ামত আলী ও হাবিব পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে মইনুল, তার দুই ছেলে সুরুজ আলী (২৫) ও সুলতানকে (৪০)। গুরুতর আহতাবস্থায় প্রথমে তাদের কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যান মইনুল হক।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েস আলম জানান, শিলাকুড়ি জলমহালে সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা হয়েছে এবং মখলিছ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মইনুল মারা যাওয়ায় মামলায় ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার জন্য কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন