কুলাউড়ায় যেভাবে নৌকা হারলো

boat_alসিলেটের সকাল ডেস্ক : নির্বাচনে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের নানা অনিয়ম, কারচুপি ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তার তত্ত্বাবধায়নে বিতর্কিত এবং প্রহসনমূলক ফলাফল ও নির্বাচন বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন কুলাউড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের পরাজিত অধ্যক্ষ একেএম শফি আহমদ সলমান। নির্বাচন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এমন দাবি জানান। গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, মারপিট করে ভোটার ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কালো টাকার প্রভাবিত ওই প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নানা তথ্য-প্রমাণসহ একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পাঠিয়েছেন বলে সংবাদ সংম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন,  গত ২২শে নভেম্বর নাজমুল হাসানকে সুনামগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি নতুন কর্মস্থলে যাননি। তিনি ব্যক্তিগত নানা অজুহাত দেখি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে তিনি তার পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন পর্যন্ত থাকার অনুমতি নেন। নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে নামেমাত্র দূরে থাকলেও এখানে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ভোটার এলাকার ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শন করে সংখ্যালঘু (হিন্দু) নিরীহ ভোটারদেরকে কেন্দ্রে আসতে দেননি। ৭নং ওয়ার্ডের আমীর ছলফু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লষ্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্রে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নৌকা প্রতীকের এজেন্টেদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম ও মনোনয়ন বঞ্চিত এবং বিগত নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থী শফিউল আলম শফিসহ জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার মদতপোষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বার্থান্বেষী মুখোশধারী নেতাদের মদতে আমার নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুরো পরিকল্পনা নিজ হাতে সম্পন্ন করেন। ৪নং ওয়ার্ডের শতকরা ৮০ভাগ হিন্দু ভোটার  অধ্যুষিত এলাকা। সকাল ১০টা হতে এ এলাকায় ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের জন্য বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাপক মহড়ায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে ওই কেন্দ্রে ৩৫-৪০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়। ২, ৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারীর সংস্থার সহযোগিতায় বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মারধর করে ভীতি সৃষ্টি করে ওই এলাকার কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের সহযোগিতায় জালভোট দেয়া হয়। ২৮শে ডিসেম্বর রাত ১টা পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসারদের পর্যায়ক্রমে তার অফিসে এনে নির্বাচনে প্রভাব  বিস্তারের চেষ্টার পাশাপাশি প্রভাবিত করেন। ২৯শে ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আলম ইউনুছ নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে গোপন বৈঠক করেন এবং নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিতদের প্রভাবিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। ওই দিন প্রাইম ব্যাংক কুলাউড়া শাখার শফি আলম ইউনুছ এর ২২০৭৭৬১০০০২০৯৭ একাউন্ট থেকে উত্তোলন করা হয় এ টাকা। একই সঙ্গে বিএনপিদলীয় প্রার্থীর নিকট হতে উপজেলা চেয়ারম্যান মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেন। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান তার অফিস কক্ষে বসে উপজেলা চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তার সহকর্মীদের দিয়ে পৌর নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ হয়ে পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচনী কোনো দায়িত্বে না থাকা সত্ত্বেও অফিসে বসে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হলেও বিকাল ২টার দিকে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিস ছেড়ে সেবা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার সহকর্মীদের দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করান। বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপিদলীয় প্রার্থীর নিকট থেকে বড় অংকের টাকা পুলিশের জন্য কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সাইফুল ইসলাম গ্রহণ করেন। এ কারণে পুলিশ প্রশাসন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মারমুখী অবস্থানে ছিল। কুলাউড়া পৌরসভায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একটি বহর প্রতিটি কেন্দ্রে আমার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার মূল নেপথ্যে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে গাজীপুর গগনটিলা রেস্ট হাউসে ওইসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ২৯ রাত্রি যাপন করেন। রিটার্নিং অফিসারকে এ বিষয়টি জানালে তিনি জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করেন নাই। কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জানেন না নির্বাচনে কারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোথায় থাকবেন। এ বিষয়টি কুলাউড়ার ইউএনও নাজমুল হাসান তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য করেছেন এবং আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

শেয়ার করুন