আফগানিস্তানকে হারিয়ে পাকিস্তানের শুভ সূচনা

72767মিজান আহমদ চৌধুরী, সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে  সিলেট পর্বে বি গ্রুপের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের । তবে মাঝের দুই বছর সংস্কার কাজের জন্য কোন ম্যাচ আয়োজন করতে পানেনি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট  ক্রিকেটের পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করেছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এর আগে ২০১৪ সালে টি-টোয়েটি বিশ^কাপে মেয়েদের বিভাগের ২৮টি ম্যাচ ও ৬টি ম্যাচ ছেলেদের বিবাগের ম্যাচ আয়োজন করে ।

মূলত স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ সিস্টেমকে উন্নত করার লক্ষ্যে এই সংস্কার কাজ চলে। বর্তমানে দেশের সর্বাধিক উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম এ স্টেডিয়ামে। বৃষ্টি থামার মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মিনিটেন  মধ্যে খেলা শুরু করা যাবে। স্টেডিয়ামের উইকেট পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ফলে পেস বলার সহায়ক হয়েছে স্টেডিয়ামের উইকেট।বর্তমানে  সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম যে কোন ধরনের সিরিজ ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারবে।

ম্যাচের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী সব জায়গায় পুলিশ, র্যাব ও নিরাপত্তা কর্মীরা হয়েছেন দ্বায়িত্বরত। দর্শক প্রবেশ পথে কয়েক ধাপে তাদেরকে তল্লাশি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা জনিত কারনে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে তেমন প্রচার প্রচারনা না হওয়ায় স্টেডিয়ামে তেমন দর্শক মাঠে হয়নি।

টসে জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক গহর হাফিজ আফগানিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠান। তার সিদ্ধান্ত যে যথার্থ ছিল তা প্রমাণ করেন দলের পেস বোলার হাসার মহসিন । আফগানিস্তানকে মাত্র ২৯ রানে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম থেকে দাড়াতে দেননি। তবে ওপেনার করিম জানাত ২৭ রানের ব্যর্থ চেষ্টা করেন । চতুর্থ উইকেট জুটিতে সর্ব্বোচ্চ ৬৯ রানের জুটি গড়েন ইকরাম ফায়েজ ও তারিক।sylhet afgan vs pakistan

আফগানিস্তান ব্যাট করতে নেমে তাদের ওপেনিং জুটি থেকে আসে মাত্র ১২ রান । ওপেনার নাবিদ শূন্য রানে মহসিনের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন।হাসান মহসিনের বোলিং তোপে ২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দল দিশেহারা তখন দলের হাল ধরেন ইকরাম ফায়েজ ও তারিক। তারা দুজন দলকে ৯৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যান । ৫৯ বলে ১৯ রান করে সাদাবের বলে কট এন্ড বোল্ড হন ইকরাম ।
এর কিছু সময় পর দলের হয়ে সর্ব্বোচ্চ স্কোরার সাদাব ৫৩ রানে আউট হলে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মত করে বেঙ্গে পড়ে। শেষ দিকের কোন ব্যাটসম্যানদের বলার মতো কোন রান না করলে ১২৬ রানে থামে আফগানিস্তানে ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট লাভ করে সাদাব খান।

১২৭ রানের সহজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ১৩ রানে ওপেনার গৌহর হাফিজকে হারায় পাকিস্তান । ১ রানের বেশী করতে তিনি সমর্থন হননি। ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে অনেক দলেরই পা ফসকায়। ৪২ রানে দ্বিতীয় উইকেটে মালিককে হারিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে সেই ভয় জেগেছিল।তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ ও উমর ৩৯ রান সংগ্রহ করলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয় পাকিস্তান। শেষ দিকে হাসান মহসিন ২৮ ও ওমর মাসুদের ১৩ রানের কল্যানে ৬ উইকেটের জয নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।আফগানিস্তানের হয়ে জিয়াউর রহমান ২টি ও রাশিদ ১টি করে উইকেট রাব করেন ।

শেয়ার করুন