আজ থেকে শুরু ‘পর্যটন বর্ষ’

a904417e894140fa54301574301dcfc7সিলেটের সকাল ডেস্ক : দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘পর্যটন বর্ষ ২০১৬’। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করে তুলতে সরকার যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে, এর অংশ হিসেবে ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ নামে উদযাপিত হবে পর্যটন বর্ষ।

২৭ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন, পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করতে সরকার ২০১৬ সাল পর্যটন বর্ষ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন বর্ষ পালনের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশকে পুরো বিশ্বের কাছে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে বছরজুড়ে পালন করা হবে বিভিন্ন কর্মসূচি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা থাকলেও এ খাতে বাজেট খুব কম। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে, তবুও আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রী জানান, দেশের পর্যটন স্থানগুলোতে যাতায়াতে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে উন্নত করতে কাজ চলছে। এর মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে, সুন্দরবন ও কুয়াকাটায় যাতায়াতব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ চলছে। এ ছাড়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পর্যটক মন্ত্রীদের বৈঠক ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
মূলত ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও কার্যক্রম চলবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। তিন বছরে সর্বমোট ১০ লাখ বিদেশি পর্যটককে বাংলাদেশে নিয়ে আসা, পর্যটন খাত থেকে ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ডলার আয় এবং পর্যটন খাতে নতুন তিন লাখ কর্মক্ষেত্র তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের এক্সিকিউটিভ অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটন বর্ষের ব্যাপক প্রচারে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বোর্ড। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে বিজ্ঞাপন, কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বিলবোর্ড ও পোস্টার, রোড শো, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং মেলায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের পর্যটনকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলা হবে। এ ছাড়া বছরজুড়ে স্থানীয়ভাবেও চলবে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা।
পর্যটন বর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে মূলত বৃহস্পতিবার থেকে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘মেগা বিচ কার্নিভাল’। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল সকালে এই কার্নিভালের উদ্বোধন করেন। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্য বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্নিভালে থাকছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আয়োজন, নৃত্য পরিবেশনা, দেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোর আলাদা আয়োজন, ঘুড়ি উৎসব, বিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, বিচ ভলিবল, জলকেলি, বিচ ফুটবল, সার্ফিং, স্থানীয় খেলা—বলি খেলা, বালুর ভাস্কর্য, সাইক্লিংসহ নানা আয়োজন।

শেয়ার করুন