২২০ পৌরসভায় নৌকা ধানের শীষের লড়াই

14সিলেটের সকাল ডেস্ক : দেশের ২২০ পৌরসভায় নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লড়াইয়ে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৭ বছর পর দেশের বড় দুই দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামল। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল বড় এ দুই দল। এছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি ৬০টি পৌরসভায় প্রার্থী রয়েছে জাতীয় পার্টির। এসব পৌরসভায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২০টি রাজনৈতিক দলের ৬৫২ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে সোমবার থেকে প্রচারণা শুরু করেছে। এছাড়া ২৭১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকে লড়ছেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল। সোমবার কমিশন থেকে পাওয়া চূড়ান্ত প্রার্র্থীর পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচনী পৌরসভাগুলোতে রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থিতার সংখ্যা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৯২৩ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে অংশ নেয়া ২০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি, বিএনপি ২২০টি, জাতীয় পার্টি ৭৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ২০টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৬টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৭টি এবং অন্যান্য দলের ৩২টি পৌরসভায় চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া ২১৮ পৌরসভায় ২৭১ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। এদের বড় অংশই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে কাঁটা হিসেবে দেখছে দলগুলো। ইসিতে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় জামায়াতের নেতারা এ নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে দলটির নেতাকর্মীরা পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। এ নির্বাচনে ২ জন মেয়র প্রার্থী হয়েছেন এমন পৌরসভা রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ২৩টিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মাদারীপুরের শিবচর ও চট্টগ্রামের চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই হবে। এ দুটি পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী নেই। এছাড়া ৬৯টি পৌরসভায় তিনজন করে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। এসব পৌরসভাতেও মূল লড়াই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ১৬২ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপির ৩ জন, জাতীয় পার্টির ১২ জন, জাসদের ৪ জনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৩ জন ও স্বতন্ত্র ১৩৯ জন রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রার্থী অপহরণ করে জোরপূর্বক প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের হুমকিতে দলীয় পদ হারানোর ভয়ে অনেকেই নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এদিকে সোমবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রতীক বরাদ্দের পরই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। এর মধ্য সারা দেশে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে।
শেয়ার করুন