সিসিক’র ৪নং ওয়ার্ডের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা

Police Comisonar Pic-01সিলেটের সকাল : সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছে। শহরের কোন ওয়ার্ডে এটাই প্রথম উদ্যোগ। শনিবার সন্ধ্যায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান বলেছেন, এটি শুধু ৪নং ওয়ার্ডে নয়; সিলেটের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক উদ্যোগ। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিসিক’র প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) এর উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে ১১টা সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশন ও সমাজসেবী ব্যাক্তিগণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনমতো আরো ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল কাদের তাপাদার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. একেএম হাফিজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিলেট ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আরমান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর যেকোন জায়গাতে বসবাস করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কথা মাথায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা জাতিগতভাবে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদাসীন। সিলেটে কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরি করলেও নিরাপত্তার বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না। টেকনোলজির ব্যবহার সারা বিশ্বে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে অপরাধ প্রবণতা কমবে, জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এটি সম্ভব হলে সিলেটে অপরাধ প্রবণতা পুরোপুরি রোধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এসএমপি কমিশনার।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, এটি একটি মহৎ ও জনসেবামূলক উদ্যোগ। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এই কার্যক্রমে নিজের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। একইসাথে চার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় আম্বরখানা পয়েন্ট এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
সভাপতির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, এই এলাকার মানুষ আমাকে তিনবার নির্বাচিত করেছেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। আমি তাদের কাছে ঋণী। তাদের নিরাপদ বসবাসের নিশ্চিয়তা বিধান করা আমার কর্তব্য। তাই আজকের এই উদ্যোগ।
তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনেও এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি। ব্যক্তি, সংগঠনসহ যারা আমার এই কাজে সহযোগিতা করেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাউজিং এস্টেস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মজিদ চৌধুরী, সমাজসেবি আব্দুল মুহিত চৌধুরী, সৈয়দ ফজলুর রহমান সেলিম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুজ্জামান, জসিম উদ্দিন আহমদ বাদল, বিশিষ্ট মুরব্বি আব্দুস সমদ, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমদ, একে আজাদ খান, আজিজুল হক মতি, আব্দুল খালিক, মো. মোস্তফা কামাল, সাইফুদ্দিন চৌধুরী আনু, মো. ফারুক আলী, আনোয়ার বখত মজুমদার, ফুয়াদ রব চৌধুরী, বেনু ভূষণ ব্যানার্জি, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল কাদির চৌধুরী, ডা. আব্দুর রকিব, মনজুর আহমদ, শাহীন খান, সৈয়দ দবির আহমদ, আব্দুল ওয়াহিদ, এমরান আলম, আব্দুস সাত্তার, আশরাফ গাজী, সাংবাদিক এমজেএইচ জামিল, সাইফুর তালুকদার প্রমুখ।

শেয়ার করুন