শ্রীমঙ্গলে পরিযায়ী পাখি ‘ফুটফুটি’

পাখি, নোমান

শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া উদ্যানে গাছের ডালে ফুটফুটি।

শীতের পরিযায়ী পাখিদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ২২ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়ায় গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল ভাগনে সাদমান ও স্থানীয় ভ্রমণসঙ্গী প্রসেনজিৎ দেববর্মা। প্রথম দিনে আবাসিক পাখি নীলদাড়ি সুইচোরা, নীল রাজা, ডোরা বসন্ত বাউরী, বড় হলদে কাঠকুড়ালি, বড় ভীংরাজ ও বড় মালাপেঙ্গা ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পাখির দেখা পেলাম না। ছোট্ট আকারের দু–তিন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা পেলেও আলোকস্বল্পতার কারণে ওদের ছবি তুলতে পারলাম না। হোটেলে ফিরে এলাম।
পরদিন সকালে আবার গেলাম। আবহাওয়া ভালো, রোদ উঠেছে, তবে কিছুটা শীত শীত লাগছে। কিন্তু পাখির সংখ্যা বেশ কম। কয়েকটি প্রজাপতি উড়তে দেখলাম। সামনের দিকে এগোলাম। ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচির শব্দে মনটা ভরে গেল। ওপর দিকে তাকাতেই একটি হলদে-ধূসর ছোট্ট পাখিকে দেখলাম মোহনীয় ভঙ্গিতে শূন্য থেকে পোকা ধরছে। পোকাটা মুখে নিয়ে ডালে এসে বসে খেল। কিছুক্ষণ পর ডালের ওপর থেকেই আরেকটি পোকা ধরে খেল। এরপর মোলায়েম গলায় ‘ছিক-ছিক-ছিক’ শব্দ করতে লাগল। আমি মাত্র তিনটা ক্লিক করেছি, এমন সময় সে উড়ে গিয়ে আরেকটি ডালে বসল। কিছুক্ষণ পর তার আরেক সঙ্গীকেও দেখলাম। সুন্দর ছোট্ট পাখিদের দেখে আমার মনটা ভরে গেল।
এটি এ দেশের শীতের পরিযায়ী (Migratory) পাখি ফুটফুটি (Grey-headed Canary Flycatcher, Canary Flycatcher or Grey-headed Flycatcher)। হলদে টুনি, ফুটফুটি চটক বা জারদ ফুটকি নামেও পরিচিত। Muscicapidae গোত্রের এই পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম culicicapa ceylonensis।
চড়ুই পাখির মতো ছোট আকারের পাখিটি ঠোঁটের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। আর ওজন মাত্র ৮ গ্রাম। একনজরে এটি হলদে-ধূসর পাখি। এর ঘাড় ও মাথা ছাই-ধূসর। মাথায় ছোট্ট ঝুঁটির মতো দেখা যায়। পিঠের রং হলুদাভ-ধূসরাভ। ডানা ও লেজ হলদে-সবুজ। বুক, পেট ও লেজের তলা হলদে। চোখ বাদামি। ঠোঁট ও পা হলুদাভ।
ফুটফুটি সচরাচর দৃশ্যমান পাখি। শীতে পরিযায়ী হিসেবে ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বন-বাগানে দেখা মেলে। সচরাচর একাকী দেখা যায়। তবে দুতিনটিকেও একসঙ্গে দেখেছি। এরা মূলত ছোট ছোট উড়ন্ত পোকামাকড় মোহনীয় ভঙ্গিতে ধরে খায়। অত্যন্ত মৃদুলয়ে ‘ছিক-ছিক-ছিক-ছিক-ছিক’ স্বরে ডাকে।
এরা যেহেতু শীতকালে পরিযায়ী পাখি হিসেবে এ দেশে আসে, তাই এ দেশে কখনোই ডিম-বাচ্চা তোলে না। প্রজননকালে এরা নিজ দেশের নির্দিষ্ট গাছের শাখায় ছোট্ট আকারের বাটির মতো বাসা বানায়। স্ত্রী তাতে ৪টি ছোট্ট ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১০-১৪ দিনে।সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সেটি করা গেলে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।-আ ন ম আমিনুর রহমান

শেয়ার করুন