‘রাজনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন মাস বয়সী শিশুকে হত্যা করে মা-বাবা’

indexমৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে ৩ বছর পর শিশু তাকলিমা হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি)-এরর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার মূল রহস্য। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের সন্তানকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করিয়েছে মা-বাবা। গতকাল মঙ্গলবার শিশু তাকলিমা’র মা জোসনা বেগমকে গ্রেফতার করে কোর্টে হাজির করা হলে তার জবানবন্দীতে এ রহস্য উন্মোচিত হয়।
জানা যায়, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তি গ্রাম সুরিখালে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট তিনমাসের শিশু কন্যা তাকলিমাকে ঘরে ঢুকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শিশুর মা-বাবা এ ঘটনায় একই গ্রামের দুই ব্যক্তিকে দায়ি করে রাজনগর থানায়  মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তাং-১২/০৮/১২)। ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি পুলিশ নিহত শিশুর মা জোছনা বেগমকে আটক করে কোর্টে হাজির করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শিশু তাকলিমার মা জোছনা বেগম তার জবানবন্দীতে জানান, একই গ্রামের প্রতিপক্ষ বাহার উদ্দিন গেদা ও আজমানের সাথে তাদের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটে। অবশেষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার স্বামী চেরাগ মিয়া তিন মাসের শিশু কন্যাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। জোছনা বেগমও স্বামীর কথায় রাজি হন। স্বামী চেরাগ মিয়া একই গ্রামের দুর্বৃত্ত শাহিন ও সুন্দরকে  ভাড়া করেন হত্যাকান্ড সংঘটিত করার জন্য। তারা রাতে ঘরে ঢুকে তিন মাসের শিশু তাকলিমাকে জবাই করে। মূল ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য জোছনার চুলও কর্তন করা হয়। এ ঘটনায় রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার মূল রহস্য বের না হওয়াতে ৩/৪ মাস পূর্বে এ মামলার দায়িত্ব সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়। সিআইডি’র ইন্সপেক্টর কামাল হোসেন গতকাল মঙ্গলবার শিশুর মাকে গ্রেফতার করে কোর্টে হাজির করলে জোছনা তার জবানবন্দীতে ঘটনার বর্ণনা দেন।
সিআইডি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিশু তাকলিমা হত্যার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন