‘যাদুর স্পর্শে’ অন্য এক সিলেট, এ কোন যাদু?

প্রতিকী

প্রতিকী

নোমান বিন আরমান : ফুটপাতে হকার নেই, সড়কে যানজট নেই। এখানে সেখানে পার্ক করা নেই যানবাহন। সব যেন গোছানো, সাজানো ও নিপাট পরিপাটি। এমন ‘যাদুর’ স্পর্শই লেগেছে সিলেটে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সফর উপলক্ষে নগরীতে এই যাদু ছড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে, চকচকে-ঝকঝকে না দেখালেও শনিবার নগরীকে অনেক পরিপাটি দেখাচ্ছে। এই ‘কেতাদুরুস্ত’ সাজযজ্ঞ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই।

সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মত সিলেট আসছেন সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ। সফরের লক্ষ সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনীতে যোগদান। তিনদিন ব্যাপী এই পুনর্মিলনী শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। আজ শনিবার সমাপনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। দুপুর ১২টায় তাঁর সিলেট পৌঁছার কথা। আসবেন হেলিক্টারে। বিকেল তিনটায় একইবাহনে রাজধানীতে ফিরে যাবেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলায় গড়েছে পুলিশ। পোশাকদারি হাজার খানেক র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি মাঠে মোতায়েন রয়েছেন শাদা পোশাকারের পুলিশ। আছেন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরাও। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিলেটে কয়েক দফা মহড়াও দিয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। রাষ্ট্রপতির যাথাযাত সড়কগুলোতে হয়েছে ‘ডামি’ যাত্রাও।

রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও শহর পরিচ্ছন্নর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারই নগরী থেকে ‘সমূলে’ উচ্ছেদ করা হয় ফুটপাত দখলকারী হকারদের। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে নগরীর কোথাও তাদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষত এয়ারপোর্ট রুট থেকে আম্বরখানা, শাহজালাল মাজার এলাকা, চোহাট্টা, জিন্দাবাজার থেকে বন্দরবাজার- নগরীর প্রাণকেন্দ্র পুরোপুরিই হকারমুক্ত।

নগরবাসী বলছেন, হকার উচ্ছেদে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন বারবার অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে নগরীকে যেভাবে হকারমুক্ত করা হয়েছে, এমনটা আগে কখনোই দেখা যায়নি। হকার উচ্ছেদের পাশপাশি উচ্ছেদ করা হয়েছে, সিএনজি অটো, মাইক্রোবাসের অবৈধ স্টেন্ডগুলো। একই সাথে সড়কের পাশের দোকানগুলো নিজেদের সীমানা ছেড়ে আগে যেভাবে, মালপত্র দিয়ে সড়ক দখল করে রাখত, এখন সেই চিত্রও নেই। সড়কের পাশের প্রত্যেক দোকান আজ সাটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। পুলিশের কড়া নির্দেশের কারণে কেউই সাটারে বাইরে এসে দোকান বসানোর সাহস করছে না। এ কারণেও নগরীকে আরও বেশি পরিপাটি মনে হচ্ছে বলে সিলেটের সকালকে বললেন নগরীর চৌকিদেখির বাসিন্দা শফিকুর রহমান। তার মতে, পুলিশ চাইলেই যে নগরীকে হকার ও যানজট মুক্ত রাখতে পারে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এই ‘পরিপাটি’ নগরই তার প্রমাণ।

এই ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ রহমত বলেন, আমরা নগরীকে হকারমুক্ত করতে কোনো ত্রুটি করছি না। কিন্তু একদিকে অভিযান শেষ করলে, অন্যদিকে তারা বসে পরে।

শেয়ার করুন