মেয়র পদে লড়ছেন ১৫ নারী

P-2সিলেটের সকাল ডেস্ক : দেশের ১৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে সরাসরি নারী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সূত্রে জানা গেছে, ২০ জন নারী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাঁচজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বর্তমান ১৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন ও বিএনপির একজন। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) পাঁচটি পৌরসভায় নারীদের মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে। বাকি তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এর পাশাপাশি প্রতিটি পৌরসভাতেই সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এক হাজারের বেশি নারী লড়ছেন। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে সরাসরি নির্বাচন করছেন ৫০-এর বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচন করা তো খুবই ইতিবাচক বিষয়। এটি কেবল নারীর ক্ষমতায়ন নয়, সামগ্রিক গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের জন্যও ইতিবাচক। তবে নির্বাচনে পেশিশক্তি, টাকা, ক্ষমতা এসব প্রতিবন্ধকতা না থাকলে হয়তো আরও অনেক নারী আসতে পারতেন। তবে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন। এই যে ভোট চাওয়া, নির্বাচিত হওয়া এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের অনেক দূর এগিয়ে নেবে।’
রাজশাহীর চারঘাটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নার্গিছ খাতুন। ২০১০ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র হিসেবে জয়ী হন। বর্তমানে তিনিই বাংলাদেশের কোনো পৌরসভার একমাত্র নারী মেয়র।  তিনি বলেন, ‘নারী মেয়র হিসেবে জনগণ আমাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছি। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
নাটোরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের জেলা শাখার সহসভাপতি উমা চৌধুরী। অনেক দিন ধরেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তিনি  বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। বাবা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। আমি আশা করছি দলের নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা জিতব।’
নাটোরের গোপালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন রোকসানা মোর্তজা। গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। তাঁর দাবি, নৌকা প্রতীকের কারণেই জনগণ তাঁকে ভোট দেবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক তহমিনা আক্তার। তিনি এর আগে উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পৌরসভা নির্বাচন করার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘বহুদিন ধরে তৃণমূলে রাজনীতি করছি। এবার দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি নৌকা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।’ পাশের জেলা পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া খাতুন। পঞ্চগড়কে তিনি মডেল পৌরসভা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের তারাবতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় সাংসদ গাজী গোলাম দস্তগীরের স্ত্রী হাসিনা গাজী।
আওয়ামী লীগের মাত্র ছয়জন নারীকে মেয়র প্রার্থী করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, ‘অনেক কিছু বিবেচনা করেই প্রার্থী দিতে হয়। আরও বেশি সংখ্যক প্রার্থী দিতে পারলে হয়তো ভালো হতো। সামনে হয়তো এই সংখ্যা আরও বাড়বে।’
নড়াইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও কালিয়া পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সোহেলী পারভীন। সোহেলী বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতি করছি। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছি। নারীদের অনুরোধেই নির্বাচন করছি।’
কুমিল্লার লাকসামে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শাহনাজ আক্তার। সারা দেশে তিনিই বিএনপির একমাত্র নারী মেয়র প্রার্থী। নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহনাজ বলেন, ‘আমার আসলে রাজনীতি করার কথা ছিল না। তবে ভোটের মাঠে নেমে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। পুরো বিএনপি আমার পক্ষে।’
সারা দেশে মাত্র একটি পৌরসভায় নারী মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা-বিষয়ক সম্পাদক খালেদা রব্বানি বলেন, তাঁদের দল নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই একটিমাত্র পৌরসভায় নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার মিরপুরে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন নাসরিন ফেরদৌস। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। নাসরিন বলেন, স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে তাঁর ভালোই লাগছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মেয়র পদে এনপিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বেসরকারি একটি স্কুলের শিক্ষক রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, কুয়াকাটায় শিক্ষার হার খুব কম। এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে তিনি কাজ করবেন। ওই দলের পক্ষে আলমডাঙ্গায় রোকসানা পারভীন, শায়েস্তাগঞ্জে খালেদা বেগম, বদরগঞ্জে শামীমা বেগম জানালেন, তিনি এলাকার গরিব, প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করবেন।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তানিয়া বেগম। এ ছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মঞ্জুরী মোর্শেদা, কুমিল্লার হোমনায় খোদেজা বেগম, নোয়াখালীর চাটখিলে ফজিলাতুন নেছা, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাজিয়া সুলতানা ও নড়াইলে আঞ্জুমান আরা মনোনয়নপত্র জমা নিলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেন।

শেয়ার করুন