বিশ্বনাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘বিস্ফোরক আইনে’ মামলা

523-thumbnailবিশ্বনাথ প্রতিনিধি : উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় ‘বিস্ফোরক আইন’-এ মামলা হয়েছে। মামলা নং-০৯। গত ২৬শে নভেম্বর উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় হামলার জের ধরে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় ‘উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ চৌধুরী ও অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান লিলু মিয়ার নেতৃত্বে অভিযুক্ত ৪০/৫০ জন ককটেল-পেট্রলবোমা ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিষদের আশপাশের এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, দোকানপাট ভাঙচুর ও বাদীকে ককটেল ছুড়ে আহত করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন নতুন বাজারের ব্যবসায়ী জিতু মিয়া। মামলায় সোহেল আহমদ চৌধুরী ও লিলু মিয়া ছাড়াও আসামি করা হয়েছে কারিকোনা গ্রামের গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা যুবদল নেতা শামীম আহমদ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আলাল আহমদ, ইমরান আহমদ সুমন, আবদুর রব, আবদুর রহিম, উপজেলা শ্রমিক দল নেতা আবুল হোসেন, কারিকোনা গ্রামের ফয়জুর রহমান আশিক, নিজাম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুমন পারভেজ চৌধুরী। এছাড়া, আরও ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ চৌধুরী নিজের সহযোগীদের নিয়ে সরকারি বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন না করে সেই প্রকল্পের টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ২৬শে নভেম্বর উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নুর উদ্দিন চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে তিনি তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে আহমেদ নুর উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। উপজেলা পরিষদের আশপাশ এলাকায় ভাঙচুরসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ওই দিন বিকালে সোহেল আহমদ চৌধুরী ও লিলু মিয়ার নেতৃত্বে লিখিত অভিযোগে উল্লিখিত অভিযুক্তরা সহ আরও ৪০/৫০ জন উপজেলার জানাইয়া গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জানাইয়া গ্রামের দোকানপাট ও লোকজনকে খোঁজাখুঁজি করে হামলার অপচেষ্টা করে। সোহেল-লিলুসহ অভিযুক্তরা ককটেল-পেট্রলবোমা-হাত বোমা নিক্ষেপ করে এসময় এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। তাদের ছুড়ে মারা ককটেলের আঘাতে বাদীসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় ককটেল ও পেট্রলবোমার আঘাতে হাজী তোতা মিয়া কমপ্লেক্সে বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গণি মিয়া ভেরাইটিজ স্টোর, আল-আমিন চায়ের দোকান’ ও হাজী মনির ম্যানশনের কাচের গ্লাস ভাঙচুর হলে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মামলার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শেয়ার করুন