বাড়ছে হামলা চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন

P-2সিলেটের সকাল ডেস্ক : পৌরসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিরোধী দলের প্রার্থীরা তাঁদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরছেন। হামলা, ভয়ভীতি, নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, সেই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠছে।
রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত হামলায় কমপক্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২০ জন বিএনপির কর্মী। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাতজন এবং হাতিয়া ও লাকসামে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নয়জন আহত হয়েছেন।
রোববার দেশের ১৭টি পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে মূলত সরকারি দল-সমর্থক নেতা, প্রার্থী বা তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে। যশোর ও সিংড়া পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েনের দাবি তুলছেন। তবে সরকারদলীয় প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নির্বাচনে জনসমর্থন না থাকায় এবং ভোটারদের সহানুভূতি পেতে বিএনপির প্রার্থীরা এ ধরনের কল্পিত অভিযোগ তুলছেন।
এদিকে সাংসদ-মন্ত্রীসহ সরকারি সুবিধাভোগীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারেন, সে বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এটা আমাদের প্রত্যাশা।’
রোববার তিনটি পৌরসভায় বিএনপির সমর্থকদের ওপর হামলায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমদের প্রচারে হামলায় ১০ জন আহত হন। নাসিরউদ্দিন অভিযোগ করেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে। তবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁদের কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তোজাম্মেল হকের কর্মীদের ওপর হামলায় পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় বিএনপির সরকারদলীয় প্রার্থী মুক্তার আলীর ছেলে ও তাঁর বন্ধুদের দায়ী করেছেন। অবশ্য মুক্তার আলী বলেছেন, এমন ঘটনার কথা তিনি শোনেননি।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. খলিলুর রহমানের ওপর একদল যুবক হামলা চালিয়েছে। ওই প্রার্থী পালিয়ে রক্ষা পেলেও তাঁর পাঁচ সমর্থককে মারধর করা হয়। খলিলুর এ ঘটনায় সরাসরি কাউকে দায়ী না করে বলেন, প্রতিপক্ষ এই হামলা চালাতে পারে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোজাম্মেল হক বলেন, হামলার কথা জেনেছেন। তবে কেউ মামলা করেনি।
হাতিয়া ও লাকসামে আওয়ামী লীগের নয়জন আহত: হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর তিন কর্মীকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা কুপিয়েছেন। রোববার দুপুরে এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা পাল্টা হামলা চালিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর দুজনকে আহত করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম ইউছুফ আলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ছাইফ উদ্দিন এ ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করেছেন।
কুমিল্লার লাকসামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী লুৎফুল হাসানের বাড়িতে হামলা করলে চারজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী খলিলুর রহমানের সমর্থকেরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে খলিলুর রহমান বলেন, তাঁর সমর্থকেরা এটা করেননি।
টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জামিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক। তবে জামিলুর রহমান বলেন, জনসমর্থন না থাকায় বিরোধী প্রার্থী এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।
বরগুনার বেতাগী পৌর নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদ হাচানুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি-সমর্থক প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল ওয়াজেদ আলী হাওলাদার। তাঁদের অভিযোগ, ওই সাংসদ পৌর এলাকার বাইরে নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ডেকে নিচ্ছেন। হাচানুর বলেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. শাহজাহান মীরদাহ। শাহজাহানের অভিযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর ভাই ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের পক্ষে প্রচারে সরকারের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন। অবশ্য মোশাররফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জয়পুরহাটে বিজয়ের মাস উপলক্ষে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে স্থানীয় সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই সাংসদ বলেছেন, তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দিলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেননি।

শেয়ার করুন