প্রতিষ্ঠার ১১ বছরেও নির্বাচন হয়নি আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায়

hobigonjআজমিরীগঞ্জ সংবাদদাতা : আজমিরীগঞ্জ ছাড়া হবিগঞ্জের পাঁচটি পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু পৌর প্রশাসক নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয়ে তিনটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখানে নির্বাচন হচ্ছে না। এতে প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও পৌরবাসী নির্বাচিত প্রতিনিধি পাননি। এতে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না।
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের মার্চ মাসে আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আজমিরীগঞ্জ, চানবাড়ি, ফতেহপুর আংশিকসহ ৬ দশমিক ৬ বর্গফুট এলাকা নিয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। উপজেলার নোয়ানগর গ্রামের তৌহিদ আলী ২০০৫ সালের শেষের দিকে নোয়ানগর, শুক্রিবাড়ি, ফতেপুর আংশিক গ্রামগুলোকে নবগঠিত আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সহকারী জজ আদালত আজমিরীগঞ্জে মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত সরকার পক্ষকে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আজও এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে।
২০০৬ সালের ১৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ২৩ পৌরসভার সঙ্গে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। এ প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আজমিরীগঞ্জ পৌর প্রশাসক গোলাম ফারুক হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি ও তিন মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। গোলাম ফারুক এ আদেশ বর্ধিত করার জন্য ২০০৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ দেন। একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় স্থিতাবস্থা বর্ধিত করার বিষয়ে শুনানি করলে আদালত তা স্থিতাবস্থায় রাখেন।
অপরদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে পৌর প্রশাসক গোলাম ফারুককে পৌর প্রশাসক পদ থেকে বরখাস্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধেও গোলাম ফারুক ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসক পদ বাতিলের আদেশের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। ২০১৪ সালের ১ জুন একই আদালত স্থগিতাদেশের সময় আরও ছয় মাস বর্ধিত করেন। এ তিনটি মামলার কারণে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না।
আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত এখানে নির্বাচন হওয়া দরকার। কারণ, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় একজন সহকারী প্রকৌশলীসহ কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। বাকি প্রায় শতাধিক পদই শূন্য।
পৌর প্রশাসক গোলাম ফারুক বলেন, তাঁকে সরকার অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করায় তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেন। এ মামলার বিপরীতে আদালতের স্থগিতাদেশ আছে আগামী বছরের মে পর্যন্ত। আদালতে মামলা-মোকদ্দমা থাকলেও পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে নেই।

শেয়ার করুন