ঢাকাকে হারিয়ে ফাইনালের পথেই থাকলো বরিশাল

Mustafiz-gayl outস্পোর্টস রিপোর্টার : বরিশাল বুলসের দেয়া ১৩৬ রানের টার্গেট তাড়া করেও জিততে পারলো না ঢাকা ডিনামাইটস। শনিবার তাদের ১৮ রানে হারিয়ে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিলো বরিশাল। রবিবার ফাইনালে ওঠার ম্যাচে তারা খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারা রংপুর রাইডার্সের সাথে। ওই ম্যাচের জয়ী ফাইনালে খেলবে কুমিল্লার বিপক্ষে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ক্রিস গেইলের ৩১ রানের ঝড় থামিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সাব্বির রহমান ফর্মে ফিরে করেছেন ম্যাচ সর্বোচ্চ ৪১ রান। আর বরিশাল ৫ উইকেটে পায় ১৩৫ রানের পুঁজি। টার্গেট ছোটো হলেও কেউ দায়িত্ব নিতে পারলো না বলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় হয়ে গেলো ঢাকার। বোলাররা বরিশালের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখলো। ঢাকাকে ৮ উইকেটে ১১৭ রানে থামিয়েছে তারা। পেসার আল আমিন হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

এদিন ওপেনিংয়ে নতুন জুটি নামিয়েছে ঢাকা। ফরহাদ রেজার সাথে যোগ দিয়েছেন আবুল হাসান। তাদের জুটিতে ৩.২ ওভারে এসেছে ১৩ রান। আবুল হাসান ১১ রান করে কেভন কুপারের বলে গেইলকে ক্যাচ দিয়েছেন। মোহাম্মদ হাফিজ (১) এদিনও ব্যর্থ। তাকেও শিকার করেছেন কুপার।

এর পর দুই ওভারে দুটি আঘাত হেনেছেন পেসার আল আমিন হোসেন। ফরহাদ (২০) উইকেটকিপার রনি তালুকদারকে ক্যাচ দিয়েছেন। পরের উইকেটটি আরো বড়। কুমার সাঙ্গাকারার (১০) দেয়া ফিরতি ক্যাচটা নিতে ভুল হয়নি আল আমিনের। দশ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় ঢাকা।

সেই চাপ থেকে তাদের বের হতে দিচ্ছিল না বরিশালের বোলাররা। ১৪তম ওভারে আবার আঘাত হানেন আল আমিন। এবার নাসির হোসেনকে (১৬) শিকার করেন। শেষ ২৪ বলে জিততে ৫৪ রান দরকার ঢাকার। আছে ৫ উইকেট। ক্রিজে ম্যালকম ওয়ালার ও মোসাদ্দেক হোসেন। ১৭তম ওভারে ম্যালকম আক্রমণ করেন মোহাম্মদ সামিকে। দুটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি মারেন। এই ওভারে আসে ২০ রান।

১৮ বলে ৩৪ রানের টার্গেটটা জয় করার মতো। কিন্তু ম্যাচে ফিরে আসা ঢাকা পরের দুই ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে খেলা থেকে একেবারেই ছিটকে পড়ে। তাইজুলকে ছক্কা মেরেছিলেন মোসাদ্দেক। ওভারের পঞ্চম বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ১৮ বল করা ম্যালকম। শেষ বলে একই কাজ করে ফিরেছেন ২৬ রান করা মোসাদ্দেক। পরের ওভারে নেই ইয়াসির শাহ। হেরেছে ঢাকা। আল আমিন ১৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট, ১৭ রানে ৩ উইকেট কুপারের। ২ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল।

এর আগে বরিশালের ইনিংসের প্রথম ওভারেই রনি তালুকদার (৪) একটি বাউন্ডারি মারার পর ফিরে গেছেন। নাসির হোসেনের বলে ম্যালকম ওয়ালারকে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার মোসাদ্দেককে দুইটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন গেইল। এই ওভারে এসেছে ১৬ রান। তৃতীয় ওভারে সাব্বির কোনো রান নিতে পারেননি। মেডেন ওভার। চতুর্থ ওভারে মোসাদ্দেককে আবার দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন গেইল।

প্রথম ১১ বলে কোনো রান করতে পারেননি সাব্বির। পুরো টুর্নামেন্টে ফ্লপ তিনি। আগের ১০ ম্যাচে করেছেন ৬০ রান। তাই তার তিন নম্বরে ব্যাট করাই ছিল চমক। কিন্তু সাব্বিরের ব্যাট জ্বলে উঠলো এই ম্যাচে। ষষ্ঠ ওভার থেকে মারতে শুরু করেন তিনি। আবুল হাসানের ওই ওভারে নেন ১৮ রান। যার মধ্যে একটি চার, দুটি ছক্কা। এক ওভার পর মোসাদ্দেককে ডাউন দ্য উইকেটে মারা তার ছক্কাটি ছিল দেখার মতো।

সাব্বিরই বেশি বল খেলছিলেন। রানও আসছিল। দশম ওভারে বরিশালের ছন্দপতন হলো। মুস্তাফিজের বলের লাইনে যেতে পারলেন না গেইল। ১৯ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩১ রান করে হলেন বোল্ড! মুস্তাফিজের স্লোয়ারটা গেইলের ব্যাট ও প্যাডের মাঝের ফাঁকা থেকে ঢুকে পড়ে স্টাম্প ভাঙ্গে। গেইল মুস্তাফিজের ডেলিভারিটা বুঝতেই পারেননি! সেই সাথে ভেঙ্গেছে ৭০ রানের জুটিও। মুস্তাফিজের এই একটি বলই খেলেছেন গেইল।

রানের এই গতি পরে আর ধরে রাখতে পারেনি বরিশাল। গেইলের বিদায়ের ১২ রান পর ফিরে গেছেন সাব্বির। ৩৯ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪১ রান করেছেন তিনি। মেহেদি মারুফের (১০) পর এসেছিলেন গত ম্যাচের হিরো রায়াদ ইমরিট। ৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ বলে ৩৭ রান করে শেষ ওভারে আউট হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লা। ৪ ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজের দলের নয়, শেষ হাসিটা মাহমুদ উল্লার বরিশালের।

শেয়ার করুন