গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি : জরিপে তথ্য

0,,15923170_303,00সিলেটের সকাল ডেস্ক : ২০০১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি হয়েছে। তবে এই সময়ে গণমাধ্যমের অবকাঠামোর উন্নতি হয়েছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। রাজনৈতিক পরিবেশও গণমাধ্যমের জন্য প্রতিকূল ছিল।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সুশাসনবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণমাধ্যমবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ কথা বলা হয়েছে। আইন ও সালিস কেন্দ্র, অধিকার, আর্টিকেল-১৯, আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ও ফ্রিডম হাউসের গবেষণা ও জরিপকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। সেটি যদি তার মতো চলতে না পারে, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১১ জন সাংবাদিক খুন হন। একই সময়ে ১০৯৩ জন আহত ও হামলার শিকার হন। এই সময়ে ১৮ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহৃত হন তিনজন। আর হুমকির শিকার হন ২৯৩ জন। নিরাপত্তা হেফাজতে অত্যাচারের শিকার হন চারজন। এ সময় মিথ্যা অভিযোগে ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর ধারায় মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই ১৩ বছরে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকারবিষয়ক বিশ্বজনীন ঘোষণারও লঙ্ঘন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার পুরোপুরি সরকারের নির্দেশে চলছে। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ৪১টি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম বাদে বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতে বিনিয়োগগুলো হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলের মালিকানা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের হাতে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ আমলে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান, ইটিভির চেয়ারম্যান ও আমার দেশ-এর সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন