ইসলামে বিজয়ের তাৎপর্য

Victory_Day_and_BG_839974975সিলেটের সকাল ডেস্ক : স্বদেশ ভাবনায় যেকোনো বাংলাদেশি মুসলমানের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি অবশ্য অবশ্যই স্বাধীনতা ও বিজয়। পদ্মা মেঘনা যমুনা বিধৌত ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের সোনা ছোঁয়া মেঠো প্রান্তর তার ভালোবাসার ঠিকানা। এটাই তার পরিচয়।

ঐতিহাসিক কাল পরিক্রমায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণ তথা গণতান্ত্রিক সমাজ বির্নিমাণ ও জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা।

কেননা, অত্যাচারিত জনগণের হাহাকার পবিত্র কোরআনে কারিমের শ্বাশত আবেদন প্রকাশ করে, ‘আর তোমাদের কী হলো যে, দূর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে- যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অত্যাচারীদের এই জনপদ থেকে উদ্ধার করো। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক পাঠাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও।’ –সূরা আন নিসা : ৭৫

অত্যাচারী শাসক গোষ্টীর বিরুদ্ধে বীর বাঙ্গালীদের ২৬৩ দিনের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের চরম পর্যায় ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করি মহান স্বাধীনতা। আরবি ‘হুররিয়্যাতুন’ অথবা ‘হুরারুন’ অর্থ স্বাধীনতা, মুক্ত, বীরত্ব, স্বাধীন ইত্যাদি। যার সমার্থক স্বাধীন বা স্বাধীনতা।

মহান আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক মানুষকে স্বাধীন সত্বা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষ ও ফেরেশতার মধ্যে পার্থক্যই হলো- মানুষের ‘ইচ্ছার স্বাধীনতা।’ এ জন্যই আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর সব কিছু মানুষের অধীন করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তার সবই তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন।’ –সূরা হজ: ৬৫

নিপীড়নের শৃংখলে বন্দীত্ব মানব মর্যাদার পরিপন্থি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং তাকে জলে-স্থলে বিচরণের সামর্থ্য দিয়েছি।’ –সূরা বনি ইসরাঈল: ৭০

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এ দেশের মৃত্যুঞ্জয়ী ত্রিশ লাখ ‘বনি আদমে’র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০, ৭১ এর কাল পরিক্রমায় আসে আমাদের স্বাধীনতা এবং পূর্ব দিগন্ত উজ্জ্বল করে ওড়ে লাল-সবুজের বিজয় নিশান।

বিজয়ের এই দিনে ১১ সেক্টর কমান্ডার, ০৭ বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ বীরউত্তম, ১৭৫ বীরবিক্রম, ৪২৫ বীরপ্রতীক সবার প্রতি আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল।

‘রক্ত ঋণে কেনা’ আমাদের স্বাধীনতা মহান আল্লাহতায়ালা বিশেষ অনুগ্রহ। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণোত্সর্গ করেছেন তারা ‘মৃত্যুহীন প্রাণ।’ যে মৃত্যুহীন প্রাণ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর পথে  মৃত্যুবরণ করেছে তোমরা তাদের মৃত বলো না বরং তারা হলো চিরঞ্জীব…।’ –সূরা আল বাকারা: ১৫৪

শেয়ার করুন