ইমরিটের বীরত্বে বরিশালের হারা ম্যাচে জয়

Emritস্পোর্টস রিপোর্টার : মোহাম্মদ ইরফানকে বাউন্ডারিটা মেরে বুনো উল্লাসে মাতলেন রায়াদ ইমরিট। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটসম্যানকে তা মানায়! ঢাকা ডিনামাইটসের বিপক্ষে নিশ্চিত হারা ম্যাচ বরিশাল বুলসকে জিতিয়েছেন এই ক্যারিবিয়ান। ইমরিটের ২৮ বলের অপরাজিত ৫৪ রানে বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটিও হলো নাটকীয়। ২ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে জিতলো বরিশাল। ১২ ডিসেম্বর সেমিফাইনাল পর্বের এলিমিনেটরে দেখা হচ্ছে এই দুই দলের।

মিরপুরে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করেছিল ঢাকা। জয় প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছিল তারা। ৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বরিশাল। আর ব্যাটসম্যান নেই। ৩৩ বলে ৬১ রান করে জেতার আশা বরিশালেরই অনেকে করেনি। কিন্তু ভিন্ন ভাবনা ছিল ইমরিটের। ক্রিজে আসার পর থেকে মারতে শুরু করেন তিনি। বোলার দেখেননি, বল দেখেছেন। অষ্টম উইকেটের পতনের পর এক প্রান্তে নিখিল দত্তকে রেখে ব্যাট করতে শুরু করেন ইমরিট। হিসেবটা শেষ পর্যায়ে ১২ বলে ২০ রানের হয়ে যায়। সেখান থেকে শেষ ওভারে ১০। প্রথম ও চতুর্থ বলে এমরিটের দুই বাউন্ডারি অসম্ভব এক জয় এনে দেয় বরিশালকে। ৬টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছেন ইমরিট।

তার আগে ব্যাট করতে নেমে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় বরিশাল। ইরফানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন রনি তালুকদার (৪)। এরপর বিদায় নেয়া ৫ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারেননি। দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন বাঁ হাতি স্পিনার নাবিল সামাদ। তিনি ফিরিয়ে দেন ব্রেন্ডন টেলর (৩) ও অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাকে (১)।

এরপর ২০ রান এসেছে। উইকেট পড়েনি। কিন্তু ৪৫ থেকে ৫৯ রান পর্যন্ত যেতে আরো ৩ উইকেট হারায় বরিশাল। ইভিন লুইস (৯), সাব্বির রহমান (৪) ও সোহাগ গাজী (১) ফিরে গেলে আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই থাকেনি বরিশালের। একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলে যাওয়া ওপেনার মেহেদি মারুফও ৩৭ রানে আউট হলে মনে হয়েছিল ওখানেই শেষ বরিশালের। কিন্তু পাশা পাল্টে দিয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরিট।

এর আগে শুরুটা ভালোই হয়েছিল ঢাকার। ওপেনিং জুটিতে মোহাম্মদ হাফিজ ও ফরহাদ রেজা তুলে আনেন ৪২ রান। ফরহাদ ১৯ রান করে সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হয়েছেন। এর পর টানা তিন ওভারে তিন উইকেট তুলে নেন নিখিল দত্ত। এটাই প্রথম ম্যাচ ভারতীয় বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান তরুণ অফ স্পিনার নিখিলের। অভিজ্ঞ হাফিজ ২৫ রান করে নিখিলের বলে মাহমুদ উল্লাকে ক্যাচ দিয়েছেন। ম্যালকম ওয়ালার (১০) হয়েছেন বোল্ড। নাসির হোসেন (১৪) ক্যাচ দিয়েছেন সোহরাওয়ার্দি শুভকে। নিখিলের কারণেই ৭২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ঢাকা।

সেই চাপের মুখে প্রতিরোধ গড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও রায়ান টেন ডেসকাট। দুজনে ইনিংসটাকে খুব দ্রুত টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। তবে প্রায় ৭ ওভার তারা উইকেট পড়তে দেননি। পঞ্চম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়েছেন মোসাদ্দেক ও ডেসকাট। তাদের প্রতিরোধ ভাঙ্গে ইমরিটের বলে কভারে মাহমুদ উল্লা ডেসকাটের চমৎকার এক ক্যাচ নিলে। ডেসকাট করেছেন ২২ রান।

ইনিংসে সবচেয়ে খরুচে ওভারটি আল আমিন হোসেনের। এই পেসার ১৯তম ওভারে দিয়েছেন ১৮ রান। এই ওভারে মোসাদ্দেক একটি ছক্কা মেরেছেন। দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন সৈকত আলী। সৈকত করেছেন ১৩ রান। তবে দলের সংগ্রহে বড় ভূমিকা ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেকের। ৪ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন নিখিল। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার এটি। ২ উইকেট নিয়েছেন ইমরিট। ১ উইকেট সোহাগের।

শেয়ার করুন