আমাদের স্বপ্নযাত্রা স্তব্ধ করতে পারেনি : শাবি উপাচার্য

SUST 1শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, আজকের এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হয় যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন।

‘পাকিস্তানিদের লক্ষ্য ছিল এ জাতিকে মেধাশূন্য করা। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তারা আমাদের স্বপ্নযাত্রা স্তব্ধ করতে পারেনি। বরং আমরা এখন তাদের থেকে অনেক অগ্রসর।’

উপাচার্য বলেন, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এদেশ প্রায় সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম এখন অনেক এগিয়ে গেছে। তাই আমাদের উচিত হচ্ছে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কেউ অনৈক্যের পথে থাকতে পারে না।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া।

SUST 2

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও শাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাই করিম খন্দকার বলেন, ইতিহাস সবসময় সোজা পথে চলে না। অনেক বাঁক পেরিয়ে সে তার আপন গন্তব্য পানে ছুটে চলে। বাংলাদেশের ইতিহাসের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য।

রেজাই করিম খন্দকার বলেন, এদেশে অনেকেই ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্নভাবে তারা পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছে। তবে বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুক্তিযোদ্ধা। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের কেউ সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছে; কিংবা মনেপ্রাণে এদেশের স্বাধীনতা চেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার এতবছর পর অনেকেই চাওয়া পাওয়ার হিসাব করেন। কিন্তু আমি বলব, আমরা অন্ততপক্ষে একটি দেশ পেয়েছি, একটি মানচিত্র পেয়েছি। এটাই আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি।

বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনের পরিচালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে রাখেন অধ্যাপক ড. মো. আখাতারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য এবং সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাকিল ভূইয়া।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, অধ্যাপক আমিনা পারভীন, সহকারী প্রক্টর আলমগীর কবির, জাহিদ হাসান, সহকারী প্রভোস্ট হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান এবং বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আ.ফ.ম. মিফতাউল হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়। দিবসের কর্মসূচিতে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ৮টায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় চেতনা ৭১-এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন।

শেয়ার করুন