‘খাসদবীরে প্রবাসীর অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন’

press con pic 23.11.15সিলেটের সকাল রিপোর্ট : নগরীর খাসদবীর এলাকার লন্ডন প্রবাসী আবদুল হালিম স্বপনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তার বড় ভাই আলহাজ্ব এমএ মুগণী খোকা।

সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ৬০ লাখ টাকা চাঁদাদাবির বিষয়টি অবান্তর উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক শত্রুপক্ষের প্ররোচনায় তার স্ত্রীর কাবিনের ৭ শতক ভূমি ও তার নির্মিত ভবনের একটি ইউনিট আত্মসাত করতেই গত ২০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হালিম স্বপন মিথ্যাচার করেছেন। এছাড়া নির্যাতনসহ হত্যা ও গুম করার যে হুমকির কথা উল্লেখ করেছে, তারও কোনো ভিত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল মুগনী খোকা বলেন, স্নেহের ছোটভাই, যাকে সন্তান জ্ঞানে লালন-পালন করেছি, লেখাপড়া শিখিয়ে বিদেশ পাঠিয়েছি কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। এটাই আমার বড় ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, গত ২০ নভেম্বর পারিবারিক শত্রুপক্ষের প্ররোচনায় আমার ছোটভাই স্বপন সংবাদ সম্মেলনে আমার বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশের মালিকানা ও ভবন তার দাবি করলেও প্রকৃত সত্য হচ্ছে বাড়ির ২৭ শতক ভূমির মধ্যে ৯ শতকের মালিক সে। ১৯৮৯ সালের আমার মা তার অংশের ৯ শতক ভূমি থেকে আমার স্ত্রীর কাবিনে ৭ শতক ভূমি প্রদান করেন। বাড়ীর অবশিষ্ট ২ শতক আমার মায়ের নামে ও ৯ শতক আমার নামে। আমার স্ত্রীর কাবিনের ৭ শতক ভূমি, ২ ইউনিটের বাসার একটি ইউনিট আত্মসাতের লক্ষে সে বিভিন্ন সময় পাঁয়তারা ও আমার ঘরে তার লোকজন দিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৩ সালের ১০ মার্চ আমার নিজ খরচে ছোটভাই আবদুল হালিম স্বপনকে স্পেন পাঠাই। সেখানে তার ভালো না লাগলে আমি ফ্রান্স পাঠাই তাকে। পরবর্তীতে আমার এক বন্ধুর সহযোগিতায় তাকে লন্ডন পাঠাই আমি। সেখানে তার জন্য বোন কনে ঠিক করলে বিয়ের খরচের টাকা না থাকায় দেশ থেকে ৫ লাখ টাকা পাঠাই। ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর আমার পিতা যখন মারা যান, তখন স্বপনের বয়স ছিলো ৪ মাস।

সন্তান স্নেহে যাকে লালন পালন করেছি, তাকে দেখতে ২০০৬ সালে আমি লন্ডন যাই। পরের বছর তার সন্তানকে দেখতে আবারো লন্ডন যাই।

২০১০ সালে এক লন্ডন প্রবাসীর কাছে স্বপনের দেনা শোধের জন্য আমার ৩০ লাখ টাকার এফডিআরের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করি। স্বপন ঋণের কিস্তি হিসেবে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও ৫ কিস্তি পরিশোধ করে আর টাকা দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ছোট ভাই স্বপন গত ২২ মে, ১৮ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার যে কাল্পনিক অভিযোগ স্বপন উত্থাপন করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। উপরন্ত তার লোকজন আমার বাসায় লুটপাট করলে তাদের বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী সালমা খাতুন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় লুটপাট ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন।

এছাড়া আমাকে ২ কোটি টাকা প্রদান, ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ যে সকল গালগল্প স্বপন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছে, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে সে আমাকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ধারী বলে বক্রোক্তি করেছে। অথচ আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর অনুসারী।

ব্যবসার পাশাপাশি আমি খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, খাসদবীর পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসার কমিটির সাথে জড়িত। আমি ৩ বার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর ও কমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি আমার নিজের ব্যবসার অর্জিত টাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে এমএ মুগনী খোকা দাবি করেন, তার ‘বখে’ যাওয়া ছোট ভাই বিভিন্ন জনের পরামর্শে বড় ভাইয়ের সম্মানহানি ঘটিয়ে তার স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। সে সিলেটের সম্মানিত রাজনীতিবিদদের নামেও অপবাদ দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালমা খাতুন লিপি, আয়রুন্নেছা, পারভিন জাহান, রোমেনা খাতুন, আলমগীর আলম, ইমরান আহমদ, ফাতেহা খাতুন মনি, ফাতেমা খানম মুক্তি, জাহানারা বেগম ঝুনু, সোহেনা বেগম প্রমুখ।

শেয়ার করুন