সিলেট প্রেসক্লাব-মাহা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী করলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক

press club pic 17.11.15সিলেটের সকাল রিপোর্ট:সিলেটের জেলা প্রশাসক  মো: জয়নাল আবেদীন বলেছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেটকে এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জৈন্তাপুরে ইপিজেড, তামাবিলে সাফারি পার্ক ও স্টোন ক্রাশার জোন এবং কোম্পানীগঞ্জে আইসিটি পার্ক স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ জেলা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ সিলেট হবে বাংলাদেশের রাজধানী। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সাংবাদিকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কামনা করেন।
মঙ্গলবার শতবর্ষের সাংবাদিকতার স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহবাব মোস্তফা খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউস মাহা’র স্বত্ত¡াধিকারী ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাব-মাহা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আহবায়ক ও ক্লাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, খেলাধুলা হচ্ছে সুস্থ বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। সুন্দর এবং সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। তাই সাংবাদিকতার পাশাপাশি সিলেট প্রেসক্লাব সদস্যরা নিয়মিত খেলাধুলা করে যাচ্চেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ক্রীড়া, পর্যটনসহ সকল ক্ষেত্রেই সিলেটের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সিলেটের সাংবাদিকরা আরো ভ‚মিকা রাখবেন। এক্ষেত্রে সিলেট জেলা প্রশাসন যে কোনো সহযোগিতায় সব সময় প্রস্তুত। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, সিলেটের যে কোনো সমস্যার সমাধান ও সম্ভাবনার বিকাশে প্রেসক্লাব প্রশংসনীয় ভ‚মিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগলিকগত অবস্থানের কারণে সিলেটের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। আমরা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, সাংবাদিকতার মতো ব্যস্ত পেশায় থেকেও সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্যরা যে খেলাধুলায়ও পারদর্শী তা অনুকরণীয়। তিনি ক্রীড়া আয়োজনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবেন বলে ঘোষণা দেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, সাংবাদিকতা অন্য পেশার মতো গতানুগতিক কোনো পেশা নয়। সাংবাদিকদের ২৪ ঘন্টাই সংবাদ সংগ্রহের পেছনে দৌড়াতে হয়। এ রকম ব্যস্ততার মাঝেও সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্যরা খেলাধুলায় সরব থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট প্রেসক্লাব একটি প্রীতি টুর্ণামেন্টে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মতো পেশাদার টিমকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।  যা সর্বমহলে প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সদস্য আব্দুল মালিক জাকা, আবদুল কাদের তাপাদার, আতাউর রহমান আতা, সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, কামকামুর রাজ্জাক রুনু,  মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, মো. আফতাব উদ্দিন, খালেদ আহমদ, আব্দুর রশিদ রেনু, সৈয়দ সুজাত আলী, ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নূর আহমদ ও মুহিবুর রহমান, চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, এম সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল বাতিন ফয়সল, মো. ফয়ছল আলম, নাছির আহমদ খান, শাহাব উদ্দিন শিহাব, আবু তালেব মুরাদ, শাহ সুহেল আহমদ, এনামুল হক, মুনশী ইকবাল, আবু বকর সিদ্দিক, রতœা আহমদ তামান্না, আলাউদ্দিন, হুমায়ুন কবির লিটন, শাহ মো. তানভীর প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবির আহমদ।
পুরস্কার পেলেন যারা : ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এবার হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়নসহ সর্বাধিক ৪টি পুরস্কার লাভ করেন এনটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মঈনুল হক বুলবুল। তিনটি পুরস্কার জিতেন আরটিভির ব্যুরো প্রধান কামকামুর রাজ্জাক রুনু। দুইটি করে পুরস্কার পান দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রশিদ রেনু, দেশ টিভির ব্যুরো প্রধান বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, এনটিভির ক্যামেরাপার্সন আনিস রহমান, দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. কামরুল ইসলাম ও এনটিভির রিপোর্টার মারুফ আহমদ। একটি করে পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন, সময় টিভির ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, বিডিপ্রেসের সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ, বাংলার আলোর কাজী হেলাল, সিলেটের ডাক এর সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ ফটোগ্রাফার নাজমুল কবীর পাভেল, সবুজ সিলেটের স্টাফ ফটোগ্রাফার মো. কয়েছ আহমদ ও ফোকাস বাংলার সিলেট প্রতিনিধি শেখ আশরাফুল আলম নাসির।

শেয়ার করুন