সিলেটে সুপার শপের নামে কোটি টাকার প্রতারণা

downloadসিলেটের সকাল : সিলেটে একটি সুপার শপের নামে কোটি টাকার শেয়ার সংগ্রহ করে পরিচালনা পরর্ষদের অনেকে উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ। প্রতারিত বিনোয়োগকারীরা তাদের কোনো হাদিশ পাচ্ছেন না। এমন অভিযোগ ওঠেছে নগরীর মানিক পীর (রহঃ) রোডের নাজিম ভিলায় প্রতিষ্ঠিত ‘স্কাইভি সুপার শপ’এর বিরুদ্ধে। এই ব্যাপারে প্রতারিতরা সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় ডায়েরি করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর স্কাইভি সুপার শপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই ব্যবসায়িক কাজে সবার অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার করে শেয়ার বিক্রয়ে মনোনিবেশ করেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লষ্টরা। প্রতিটি শেয়ার ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি শুরু হলে শেয়ার বিক্রি কয়েক’শ ছাড়িয়ে যায়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করতে থাকেন স্কাইভি সুপার শপের ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের লোকজন। এর মধ্যে রয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও নগরীর তালতলার বাসিন্দা বিপ্লব কান্তি দে, ভাইস চেয়ারম্যান ও শিবগঞ্জ হাতিমবাগের বাসিন্দা হুমায়ূন আজাদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাতীপাড়ার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া, অন্যান্য দায়িত্বশীলদের মধ্যে তাহেরা বেগম চৌধুরী, ইশতিয়াক আজিম চৌধুরী, খায়রুল আলম মুমিন, সৈয়দ জাকারিয়া, আসাদুর রহমান, কাওছার আহমদ, ছাদিকুর রহমান জুয়েল এবং কাজী ইফতেখার সিদ্দিক।এদিকে, সুপার শপের শেয়ার ক্রয় করে প্রতারণার শিকার হওয়া লোকজন ছাড়াও খোদ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন। পরিচালনা পর্ষদের উপ পরিচালক (প্রকল্প) কাজী ইফতেখার সিদ্দিক কতোয়ালী থানায় গত ৬ নভেম্বর একটি জিডি এন্ট্রি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সুপার শপ হঠৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। শেয়ার ক্রেতারা খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও সুফল পাচ্ছেন না। এক পর্যায়ে তারা দোকানের মালিক নাহিদ আহমদের সাথে দেখা করেন। দোকানের মালিক তাদের প্রথমে আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তিনি অন্যত্র দোকান ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দোকান মালিকের কাছে ১৪ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ৫ বছরের জন্য ভাড়া নেয়া হয়। বর্তমানে ডেকোরেশন ও মালামালসহ ৪০ লাখ টাকার মালামাল স্টক রয়েছে বলেও তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হওয়া সত্বেও অপর সদস্যদের বিরুদ্ধে জিডি এন্ট্রিকারী কাজী ইফতেখার সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকে বিভ্রান্ত করেছে। পরিচালক হিসেবে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওনাদারদের চাপ থেকে রক্ষা পেতে বিদেশে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

 

এসব বিষয়ে দোকান মালিক নাহিদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের কাছে তার কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে স্কাইভি সুপার শপের শেয়ার ক্রয়কারী লোকজন দোকান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন। বাকী থাকা কিছু মালামাল আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি জব্দ করেছেন বলে দাবী করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, মাসিক ৪৭ হাজার টাকার বিপরীতে ৫ বছরের চুক্তিতে তিনি নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কাছে দোকান ভাড়া দেন। তবে, তিনি জামানতের টাকার পরিমাণ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। স্কাইভির পক্ষ থেকে শেয়ার ক্রয়কারী অনেককে চেক প্রদান করা হয়েছে। বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাওনা টাকা না পেলে তিনি পুনরায় দোকান ভাড়া দেবেন বলেও জানান।

নগরীর একজন বিশিষ্ট নাট্যকর্মী অভিযোগ করেন, স্কাইভি কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন লাভ দূরে থাক আসল টাকা পাওয়া নিয়েই তিনি শংকিত রয়েছেন। এছাড়া, শেয়ার ক্রয়কারী শাহান উদ্দিন নাজু, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মুনিম সিরাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, স্কাইভি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা আরো জানান, চাপে পড়ে স্কাইভি কর্তৃপক্ষ কয়েকজনকে চেক প্রদান করলেও চেকে আগামী বছরের তারিখ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের স্কাইভির লোকজন ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে স্কাইভি সুপার শপে গিয়ে দেখা যায় সাইনবোর্ড খোলা এবং একটি মাত্র শাটার খোলা। ভেতরে প্রবেশ করার আগেই এক যুবক আগমনের কারণ জানাতে চান এবং মেগা শপ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, কিছু মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দু’তিনজন নারী কর্মী মালামাল বাছাই করছেন। এ সময় দোকানের মালিক নাহিদ আহমদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অধিকাংশ মালেই মেয়াদ উত্তীর্ণ। তাই কিছু মালামাল বাছাই করা হচ্ছে।এব্যাপারে স্কাইভি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব কান্তি দে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ূন আজাদ চৌধুরীর মোবাইলে পর পর দু’দিন যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সৈয়দ জাকারিয়া এবং ছাদিকুর রহমান জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এমপ্লই হিসেবে কাজ করেছেন বলে দাবী করেন। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং এমডির কারণে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয় বলে উল্লেখ করেন। এমন কি, শেয়ার ক্রয় করে তারা নিজেরাও টাকা খুঁইয়েছেন বলে জানান।যোগাযোগ করা হলে কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্কাইভি সুপার শপ নিয়ে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন