সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে : আর্টিকেল-১৯

1সিলেটের সকাল ডেস্ক : বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল-১৯। সংগঠনটি বলেছে, যখন আন্তর্জাতিক মহল মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রের অবস্থান মাঝে মাঝে আপসমূলক। আজ ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক দায়মুক্তি অবসান দিবস। এ উপলক্ষে রোববার দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা বলেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তীব্র মাত্রায় সহিংসতা বাড়ছে। কিন্তু সরকার এই সহিংসতার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আর্টিকেল-১৯ সরকারের প্রতি ব্লগার ও সাংবাদিকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের জন্য যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
আর্টিকেল-১৯-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, ‘ব্লগার ও সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা ও হত্যায় দায়মুক্তি উগ্রগোষ্ঠীর আরও শক্তিশালী হওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। কেননা, কোনো পরিণতির আশঙ্কা ছাড়া তারা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্তব্ধ করে দিতে পারে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে গত ছয় মাসের কম সময়ে চারজন ব্লগার নিহত হয়েছেন। অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাশ ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় যথাক্রমে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ৩০ মার্চ, ১২ মে ও ৭ আগস্ট নিহত হয়েছেন। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের একটি জঙ্গি সংগঠন এ বছর তিনটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে সংগঠনটি ২০ জন ব্লগারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে অবস্থান করছেন এবং কয়েকজন পশ্চিমা দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিকুর হত্যা মামলা ছাড়াও এ বছর হত্যার শিকার হওয়া বাকি তিন ব্লগার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি, যা তদন্তকাজে দীর্ঘসূত্রতাকে ইঙ্গিত করছে। গত বছর সাংবাদিক সরদার নিপুল ও দেলোয়ার হোসেন হত্যার বিচার এখনো শুরু হয়নি।
আর্টিকেল-১৯-এর মতে, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব ও তদন্তে ধীরগতি সন্ত্রাসীদের আরও শক্তিশালী করছে, যা দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও জোরালো করে তুলছে। সংগঠনটির হিসাবে, ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন ব্লগার ও ৪৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কিন্তু মাত্র একজনকে হত্যার বিচার হয়েছে। অনেক মামলার এখনো বিচার শুরুই হয়নি।

শেয়ার করুন