রাজন-রাকিবের মামলার চেয়েও দ্রুততম সময়ে ঘোষণা হচ্ছে সাঈদ হত্যা মামলার রায়

SAEEDসিলেটের সকাল রিপোর্টঃ সিলেটে স্কুল ছাত্র আবু সাঈদকে অপহরণ ও হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। সোমবার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছেন সিলেট বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রশীদ।
আদালতের (পিপি) আব্দুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার আদালতে সাঈদ অপহরণ ও হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বিচারক সোমবার রায়ের তারিখ ধার্য্য করেছেন। তিনি জানান, রোববার প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আসামিপক্ষের ৭ জন আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সিলেটের অপর শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন ও খুলনার শিশু রাকিব হত্যার মামলার চেয়েও স্কুলছাত্র শিশু আবু সাঈদ হত্যার মামলার রায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে হতে যাচ্ছে। সিলেটের আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরদিন ১ ডিসেম্বর আদালতের বিচারক আব্দুর রশিদ অবসরে যাবেন বলে জানান পিপি।
চলতি বছরের ১১ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রায়নগর থেকে স্কুলছাত্র আবু সাঈদকে (৯) অপহরণ করা হয়। এরপর পুলিশ ১৩ মার্চ রাতে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুলের কুমারপাড়াস্থ ঝর্ণারপাড় সবুজ-৩৭ নং বাসার ছাদের চিলেকোঠা থেকে সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার কনস্টেবল এবাদুর, র‌্যাবের সোর্স গেদা ও ওলামা লীগ নেতা রাকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই তিনজনই আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় সাঈদের বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে এ চারজনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় সিলেট মহানগর হাকিম ১ম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) আবদুল আহাদ চৌধুরী। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসাইন। ওই অভিযোগপত্রে এই ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ৭ অক্টোবর অভিযোগপত্রের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ অক্টোবর সিলেটের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাহেদুল করিম চার্জশিট আমলে নিয়ে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নথিপত্র স্থানান্তর করেন এবং ৮ নভেম্বর এই আদালত মাছুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ও মালামাল ক্রোকের আদেশ দেন। আদেশের একদিনের মাথায় পলাতক আসামী মাছুম ৯ নভেম্বর সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। মাত্র ৬ কার্য দিবসে শেষ হলো মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম।
নিহত আবু সাঈদ রায়নগর হযরত শাহ মীর (র.) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ও একই এলাকার দর্জিবন্দ বসুন্ধরা ৭৪ নম্বর বাসার আব্দুল মতিনের পুত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এড়ালিয়াবাজারের খশিলা এলাকায়।

শেয়ার করুন