ভোলাগঞ্জে সংঘর্ষে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আরো একজনের মৃত্যু

hottha-mamla-thumbnailকোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আবুল মিয়া (৫০)। তিনি ভোলাগঞ্জ উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার পুত্র। এদিকে, গত শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এজাহারনামীয় ১১ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহত শামীম আহমদ ছোটনের ভাই গিয়াস উদ্দিন বতুল্লা বাদী হয়ে গত শনিবার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হচ্ছে-উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের আব্দুল মনাফের পুত্র আলিম উদ্দিন, আব্দুল গফুরের পুত্র জিয়া উদ্দিন ও মনির উদ্দিন, মৃত আব্দুল বারীর পুত্র জৈনুদ্দিন, আব্দুল মনাফের পুত্র জালাল উদ্দিন ও আলী নূর, কালিবাড়ি গ্রামের আকরম উল্যাহর পুত্র সৈদুর রহমান, দক্ষিণ কলাবাড়ি গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে কালা মিয়া, কালীবাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, তার (সিরাজ) পুত্র বিলাল ও কালীবাড়ি গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র রজন। মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বতুল্লা জানান, শুক্রবারের সংঘর্ষে আবুল মিয়া পাথরের আঘাতে আহত হন। গত তিন দিন ধরে তিনি কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা রোববার তাকে ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু, স্বজনরা তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে সমবেত হন। তার মৃত্যুতে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি জানান,শুক্রবারের সংঘর্ষে আহত একজন কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো চিকিৎসাধীন আছেন। আহত আজিদ মিয়া নামের আরো একজন ছাড়পত্র নিয়ে রোববার বাড়িতে গেছেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি দিলওয়ার হোসেন জানান, আবুল মিয়া নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ভোলাগঞ্জ গ্রামে গেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে, এখনো এজাহারভুক্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে ও ধলাই সেতুর মাঝামাঝি স্থানে কোয়ারীর একটি অংশের দখল নিয়ে ভোলাগঞ্জের দুলা মিয়া মেম্বার, আমির আলী, আলাউদ্দিন, নোমান ও আতাউর গ্রুপের সাথে উত্তর কলাবাড়ী গ্রামের সাহাবুদ্দিন, আলিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ গ্রুপের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিরোধীয় কোয়ারীর সীমানা নির্ধারণ, সেখানে বোমা মেশিন বসানো ও চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে উভয় পক্ষের লোকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছোটনকে পাথর দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে নির্মমভাবে খুন করে সাহাবুদ্দিন গ্রুপের লোকজন। এর তিন দিনের মাথায় গতকাল রোববার আরো একজনের মৃত্যু হলো।

শেয়ার করুন