বদলে গেছে ফাস্টফুডে : বই মিলে না ‘বইঘরে’

7নোমান বিন আরমান :
রেলস্টেশন আর বই যেন একে অন্যের নিত্যসারথী। প্রায় প্রত্যেক স্টেশনেই রয়েছে বইঘর। ট্রেনের অপেক্ষা বা রেলে দীর্ঘপথের যাত্রাÑ সারাক্ষণের নির্মল সঙ্গীর যোগান দিত ওইসব বইঘর। রোজকার পত্রিকা থেকে নিয়ে শিল্প-সাহিত্য, ধর্ম-দর্শন, ইতিহাস-ঐতিহ্য। নানা ধরণের বইয়ে সমৃদ্ধ রেলস্টেশনের সেসব বইঘর এখন শুধুই পুরনো দিনের গল্প। বইঘর বদলে গেছে ফাস্টফুডে।

এটা সিলেট রেলস্টেশনেরই গল্প না, পুরো দেশেরই অপ্রত্যাশিত এক ‘বিষাদ সিন্ধু’র চিত্র। সিলেট রেলস্টেশনে ‘বাংলাদেশ লাইব্রেরী’ ও ‘রেলওয়ে বইবিতান’ নামে দু’টো বইঘর আছে। এখন সেখানে বইয়ের থাক দখল করেছে, বোতলজাত পানি, বিস্কিট, চিপস, চানাচুরসহ ফাস্টফুড পণ্য। শুরুতে না থাকলেও বইঘর দুটির নামের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে, ‘ফাস্টফুড’ শব্দও।

9বাংলাদেশ লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বই নেই বললেই চলে। চিপস, চানাচুর, কোমলপানিসহ রকমারি পণ্যের আড়ালে থাকের এককোণে হাতেগুনা কয়েকটি বই নিজেদের বিপন্ন অবস্থার জানান দিচ্ছে। দেখেই বোঝা যায়, অনেকদিন এসবে মানবস্পর্শ পড়েনি। চোখ যায়নি ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা কোনো পথযাত্রী পাঠকের।

লাইব্রেরিতে বই নেই কেন, এমন জিজ্ঞাসায় দোকান মালিক সিরাজুল ইসলাম অসংকোচেই স্বীকার করলেন, বইয়ের দীন-হীন সময়ের কথা। জানালেন, আগে এসব দোকান মূলত বইয়ের জন্যেই ছিল। এর সাথে কিছুটা খাবারপণ্য থাকত। এখন পানীয়-খাবারই প্রধান। এর সাথে আগের কেনা অবিক্রিত বইগুলোই লাইব্রেরির ‘মান’ রক্ষা করে চলেছে। তবে, এসব বই আর কেউ এখন দেখতেও আসেন না বলে জানালেন তিনি।

সিরাজের মতে, হাতের মোবাইলফোনই এখন মুদ্রণ বইয়ের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বই পড়ে আগের সময়ের যাত্রীরা দীর্ঘ পথ যেভাবে কাটাতেন, মোবাইলফোনই এখন সেটা হচ্ছে। ব্যবসা ঠিকিয়ে রাখতেই এখন ফাস্টফুডের প্রতি তারা ঝুঁকছেন বলে জানান।

8পাশের রেলপথ বই বিতানেরও একই দশা। একটি তাকে পুরনো কিছু বই পড়ে আছে। বাকি জায়গা দখল করে আছে ফুডসামগ্রী। এব্যাপারে রেলপথ বই বিতানের মালিক মো. কবির বলেন, একসময় বই, ম্যাগাজিন এসবের প্রচুর চাহিদা ছিল, তাই রাখতেন। ওই প্রজন্মেরও বইর প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। এখন সবকিছু ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় তাই আগের মতো চাহিদা নেই। বর্তমানে এখানে বই ব্যবসা লাভজনক না হওয়ায় এসব তোলেছেন। ফাস্টফুড নামটা বছরখানেক আগে যোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত নুরে আলম নামে এক তরুণ মোবাইলে মগ্ন। তিনি একটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। বললেন, বর্তমানে অনলাইনে সবকিছু পাওয়া যায়। দশ টাকার এমবি খরচ করে অনেক কিছু পড়া যায়, তাই আগের মতো বইর চাহিদা নেই।

শেয়ার করুন