ফের বাংলাওয়াশ জিম্বাবুয়ে

3rd odi ban vs zimমিজান আহমদ চৌধুরী : গোটা ম্যাচে মাত্র দুবারই সফরকারী জিম্বাবুয়ে বাংলাওয়াশ এড়ানোর মত চোখ রাঙাতে পেরেছে। বাকি সময়ে আধিপত্য দেখিয়েছেন মাশরাফি-মুস্তাফিজরা। ফলে ২১৫ রানে গুটিয়ে ৬১ রানের হারে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে জিম্বাবুয়ে।

কাটার মুস্তাফিজ একাই ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন ধসিয়ে দেন। সাতক্ষীরার এই বিস্ময় পেসার তার ক্যারিয়ারের মাত্র নবম ম্যাচে তৃতীয়বারের মত ৫ উইকেট পেলেন। আজও জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। তবে স্লিপের দুরূহ সে ক্যাচ তালুবন্দি হয়নি।

এর আগে বাংলাদেশ টানা দুই জয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। প্রথম ম্যাচে ১৪৫ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৮ রানের বড় জয় পায় মাশরাফিরা। শেষ ম্যাচে ৬১ রানে জিতে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশ করলো।

গতবছরের শেষ দিকে টাইগাররা এই জিম্বাবুয়েকে ৫-০ তে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছিল।

এরপর ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি দিয়ে টানা পাঁচটি সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করছে মাশরাফিরা।

আগামী ১৩ ও ১৫ নভেম্বর দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুদল। দুটি ম্যাচই হবে একই মাঠে।

বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে তিন অর্ধশতকে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে করে ২৭৬ রান।

স্বাগতিকদের পক্ষে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ছাড়া মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন।

দিবারাত্রির তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তার প্রতি সন্মান রেখে উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।tamim imrul Partnership

১৪৭ রানের এই জুটি ভাঙেন সিকান্দার রাজা। এগিয়ে মারতে গিয়ে তার বলে স্ট্যাম্পিং হন ইমরুল কায়েস। এর আগেই অবশ্য এই সিরিজে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। ৯৫ বলে ৭৩ রানের ইনিংসে ইমরুল কায়েস ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা হাকিয়েছেন।

এরপর তারই পথ অনুসরণ করেন তামিম ইকবাল। গ্রায়েম ক্রেমারের বলে তিনিও স্ট্যাম্পিং হন, ব্যক্তিগত ৭৩ রানে, দলীয় রানও তখন ১৭৩। ৯৮ বলের ইনিংসে তামিম ৭টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন।

অবশ্য এক্ষেত্রে তামিমের দুর্ভাগই বলতে হবে। বল ব্যাটে লেগে সামনে ড্রপ করে উইকেটের পেছনে চলে যায়। তামিম রান নিতে এগিয়ে গেলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন রেজিস চাকাভা।

এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকা মুশফিকুর রহিমও স্ট্যাম্পিং হন, ম্যালকম ওয়ালারের বলে। তিনি ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ২৮ রান।

১৯০ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩২ রানের এই জুটি ভাঙেন ক্রেমার। মাসাকাদজার (অতিরক্তি) তালুবন্দি হওয়ার আগে লিটন করেন ১৭ রান।

দলীয় ২২৬ রানেই ফিরে গেছেন সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন। এক ওভারে তাদের তুলে নেন লুক জঙ্গুয়ে। শেষ ৩৬ রান করতে বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট। ফলে বড় রানের স্কোর গড়া একটা সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে মাহমুদুল্লাহ আর অধিনায়ক মাশরাফির ঝড়ো ৩৭ রানের জুটিতে ২৫০ পার করে বাংলাদেশ। মাশরাফি দলীয় ২৬৩ রানে পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড হন, ১১ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৬ রান করে।

এরপর শেষ ওভারের শেষ দুই বলে মাহমুদুল্লাহ ও মুস্তাফিজুর রহমান রানআউট হলে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করে। এর আগেই অবশ্য বিশ্বকাপের পর রান খরায় থাকা মাহমুদুল্লাহ ৪০ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করে অর্ধশতক তুলে নেন। অবশ্য আগেই একবার মাহমুদুল্লাহ রানআউট হলে তা নিয়ে বিতর্ক ওঠে।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে লুক জঙ্গুয়ে এবং গ্রায়েম ক্রেমার দুটি করে এবং পানিয়াঙ্গারা, মিকান্দার রাজা ও ম্যালকম ওয়ালার প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন।

২৭৭ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সফরকারীদের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। চারের মার দিয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করেন চামু শিভাভা। কিন্তু বোলার যে কাটার স্পেশালিস্ট মুস্তাফিজুর রহমান। পরের বলেই বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন শিভাভাকে। এরপর নিজেদের ইনিংস গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন রেগিস চাকাবভা এবং ক্রেইগ আরভিন। দলীয় ৪৩ রানের মাথায় চাকাবভার বিদায়ের পরপরই বিদায় নেন আরভিনও। ৪৭ রানে তিন উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক চিগুম্বুরা ও শন উইলিয়ামস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮০ রান যোগ করে জয়ের দিকেই এগোতে থাকে সফরকারীরা। দলীয় ১২৭ রানে চিগুম্বুরাকে ফিরিয়ে প্রথম বিপদ দূর করেন সাব্বির রহমান। ৪৭ বলে ৪৫ রানে আসে চিগুম্বুরার ব্যাট থেকে।
তবে অপরপ্রান্ত থেকে আক্রমণ চালাতে থাকেন শন উইলিয়ামস। ২ রানের ব্যবধানে ওয়েলার ও উইলিয়ামসকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেন আল আমিন হোসেন ও মাশরাফি। ৮৪ বলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলা উইলিয়ামস মাশরাফির বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।
তার বিদায়ে এখন জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে টাইগাররা। বাকি কাজটুকু সারতে খুব বেশি সময় নেননি মুস্তাফিজ। পরপর দুই বলে সিকান্দার রাজা ও লুক জঙ্গেকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন সাতক্ষীরার এই তরুণ। হ্যাটট্রিক না হলেও এর পরের ওভারেই নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনাশে পানিয়াঙ্গারাকে। জিম্বাবুয়ের রান তখন ২১৪-৯। এর পরের ওভারেই শেষ আনুষ্ঠানিকতাটুকু সারেন আরাফাত সানি। মুজারাবানিকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে ২১৫ রানে গুটিয়ে দেন সফরকারীদের ইনিংস। সফলতম বোলার মুস্তাফিজ ৩৪ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। বাকি ৫টি উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন মাশরাফি, নাসির, আল আমিন, আরাফাত সানি ও সাব্বির রহমান।

শেয়ার করুন