’পরকীয়া’র কারণে পুতুল খুন : ঘাতক স্বামীর স্বীকারোক্তি

untitled-4_171648-600x400সিলেটের সকাল : পরকিয়ার প্রেমে জড়িয়ে পড়ার ক্ষোভেই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী পুতুল বেগমকে নিমর্মভাবে খুন করে লাশ ফেলে আসি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৫ম আদালত) কুদরাত-ই-খোদার আদালতে গ্রেফতার হওয়া পুতুলের স্বামী ঘাতক উমর ফারুক দোলন (২৭) এভাবেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেন। হত্যার দায় স্বীকার করে প্রায় ৩ ঘন্টার জবানবন্দীতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন ঘাতক দোলন। ধৃত দোলন জৈন্তাপুর থানার পুকুরপাড়ের হেলাল মিয়ার পুত্র।
পুলিশ জবানবন্দী শেষে সন্ধ্যার পর তাকে জেলে হাজতে প্রেরণ করেছে। গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জৈন্তাপুর এলাকায় জৈন্তাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক উমর ফারুক দোলনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী পুতুলকে নিজেই হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন দোলন ।
দোলনের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জৈন্তাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিণয় ভুষন রায় জানান, গত ১৯ অক্টোবর স্ত্রী পুতুল বেগম (২১)কে দোলন মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান জৈন্তাপুর আলুরতল ব্লক ফ্যাক্টরিতে। ওই ফ্যাক্টরিতে তিনি চাকরি করেন। সেখানে স্ত্রী আসার পর তারা দু’জন মিলে সাংসারিক কথাবার্তা বলেন। এরপর পুতুলকে নিয়ে আলুরতল জঙ্গলের ভেতর যান। সেখানে দু’জনের কথাবার্তার একপর্যায়ে পুতুলের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক রয়েছে কি-না জানতে চান দোলন। পুতুল না বলার পর দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে দোলন উত্তেজিত হয়ে পুতুলকে পাথর দিয়ে মাথায় তিন-চারটি আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর তার লাশ ফেলে দেওয়া হয় জঙ্গলের পাশে একটি খালে। দোলন আদালতে প্রায় ৩ ঘন্টা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে জৈন্তাপুর উপজেলা উমর ফারুক দোলন (২৭) -এর সাথে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয় পুতুল বেগমের (২১)। পুতুল বি-বাড়ীয়া জেলার নাছিরনগর থানার পান্দাউক গ্রামের মোঃ রফিক মিয়ার কন্যা। গত দু’বছর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এ কলহের কারণে পুতুল পিতার বর্তমান ঠিকানা নগরীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বসবাস করতেন। পুতুল মেজরটিলা স্কলার্স হোম স্কুলে আয়া হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ অক্টোবর রাত অনুমান ৮টায় পুতুল বাসা থেকে বের হন। এরপর আর তিনি বাসায় ফিরেননি। পুতুলকে না পেয়ে তার পিতা রফিক মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় জিডি করেন। জিডিতে তিনি গত ১৯ অক্টোবর থেকে মেয়ে নিখোঁজ এর কথা উল্লেখ করেন। গত ৩১ অক্টোবর জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক ফলবাগান বর্তমান জাফলং ভ্যালী বোর্ডিং স্কুল-এর সংরক্ষিত এলাকার একটি নালার পার্শ্বে জঙ্গলের মধ্যে হতে এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ (কংঙ্কাল) উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে কঙ্কালের আলামত রেখে অজ্ঞাত এই মহিলার লাশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই নগরীর মানিকপীর টিলায় দাফন করা হয়েছিলো। লাশের সাথে পাওয়া চুড়িটি রাখা হয়েছিলো জৈন্তাপুর থানায়। থানায় রাখা এই চুড়ি দেখে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন কঙ্কালটি ছিল গৃহবধূ পুতুল বেগমের। মেয়েকে শখ করে চুড়ি কিনে দিয়েছিলেন মা আনোয়ারা বেগম ।
একই ধরনের চুড়ি ছিল পুতুলের মায়ের হাতেও। তাতেই উদ্ঘাটিত হয় উদ্ধার হওয়া লাশটি পুতুলের। পরিচয় জানার পর গত বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করে পুতুলের স্বামী উমর ফারুক দোলনকে। প্রথমে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন পুলিশের কাছে। তাতেই সন্দেহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোলন স্ত্রী পুতুলকে নিজেই হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি কঙ্কাল পাওয়ার সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদে কঙ্কালের সাথে একটি চুড়ি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব জানার পর গত মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কপিসহ জৈন্তাপুর থানায় যান পুতুলের পিতা শফিক মিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ছেলে বায়েজিদ। সেখানে প্রথমে তারা পুলিশের কাছে রাখা চুড়ি দেখতে পান। ওই চুড়ি দেখার পরই তারা নিশ্চিত হন এটি পুতুলের। একপর্যায়ে পুতুলের মায়ের হাতে থাকা চুড়ির সঙ্গে মিলে যায়। গত ৩১ অক্টোবর জৈন্তাপুরের জাফলং ভ্যালি স্কুল এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের হাতে থাকা চুড়ি। পরে এ ঘটনায় পুতুলের পিতা মোঃ রফিক মিয়া বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং- ২ (০৩-১১-১৫)।

শেয়ার করুন