নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্পেনে গ্রেফতারি পরোয়ানা

netaniyahu_bg_991321184সিলেটের সকাল ডেস্ক : ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ দেশটির বর্তমান ও সাবেক সাত শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে স্পেনের একটি আদালত। ২০১০ সালে একটি নৌবহরে হামলার মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেছে স্প্যানিশ ন্যাশনাল কোর্ট বিচারক হোসে দ্য লা মাতা।

ল্যাটিন আমেরিকার একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংবাদপত্র।

খবরে বলা হয়, ২০১০ সালে সহযোগিতা দিতে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল নৌপথে গাজা উপত্যকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। ছয়টি ছোট জাহাজের এই বহরের প্রধান জাহাজের নাম ছিলো ‘মাভি মারমারা শিপ’। ইসরায়েল তখন অভিযোগ করে, অবরোধ উপেক্ষা করে এই বহর অন্যায়ভাবে গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলো।

ওই বহরে পাঁচশ যাত্রী ছিলেন, যাদের সবাই স্বেচ্ছাসেবক। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তাদের মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়। পরের মাসে মৃত্যু হয় অপর এক গুরুতর আহত স্বেচ্ছাসেবকের। বহরে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রি ও নির্মাণ উপকরণ বহন করা হচ্ছিলো।

গত বছর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্থগিতাদেশ দেন বিচারক হোসে দ্য লা মাতা। তবে এ বছর আবারও শুনানি শুরু হয় এ মামলায়। এরই এক পর্যায়ে নেতানিয়াহু ও অপর ছয় ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো। এর ফলে স্পেনে পা রাখা মাত্র গ্রেফতার হবেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীসহ অভিযুক্ত বাকিরা।

অভিযুক্ত অপর ছয় কর্মকর্তারা হলেন, ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লেইবারম্যান, সাবেক কৌশলগত সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী মোশে ইয়ালন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলি ইশাই, দফতর বিহীনমন্ত্রী বেনি বেগিন ও ভাইস এডমিরাল ম্যারন এইলজার। ২০১০ সালে স্বেচ্ছাসেবী নৌবহরে ম্যারনের নেতৃত্বেই অভিযান পরিচালিত হয়।

তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এ বিষয়টিকে ‘প্ররোচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমানুয়েল নাকশন। স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে তিনি বলেছেন, আমরা এ ঘটনাকে প্ররোচনা বলেই মনে করছি। আমরা স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি। চেষ্টা করছি, এ পরোয়ানা প্রত্যাহার করিয়ে নিতে। আশা করছি, খুব শিগগির এ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে।

শেয়ার করুন