চাশ্রমিক বনমালী হত্যায় খুনী অমিতের স্বীকারোক্তি

BARLEKHA PIC-02বড়লেখা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগানের শ্রমিক বনমালী বোনার্জী’র (৩৬) হত্যাকারী অমিত বোনার্জী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বলেছেন, পূর্ব শত্রুতার জেরেই বনমালীকে খুন করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান জামানের আদালতে অমিত বোনার্জী বনমালী হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অমিত বাগানের পুড়াটিলা এলাকার মধু বোনার্জীর ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমিতাভ দাস তালুকদার মামলার ৫ দিনের মাথায় রোববার বিকেলে তাকে বাগান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।
এর আগে বনমালী হত্যার ঘটনাস্থল থেকে দু’শ গজ দুরে ছড়ার পাশ থেকে একটি রক্তমাখা জিন্সের প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। এর সূত্র ধরে অমিত বোনার্জীকে সনাক্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালতে বনমালী হত্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অমিত তিন বছর পূর্বে বড় ভাইকে বান (যাদু) মেরে হত্যার সন্দেহে বনমালী বোনার্জীকে খুন করেছে বলে জানায়।
থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, পাথারিয়া চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক বনমালী বোনার্জী (৩৬) গত সোমবার রাত সাড়ে আটটায় বাগান থেকে গরু আনতে গিয়ে বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে তাঁকে পায়নি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টায় পাথারিয়া চা বাগানের প্রশাসনিক অফিসের দেড়’শ গজ উত্তরে চৌকিদার বিপ্লব বোনার্জী, সঙ্গীয় অজিত বোনার্জী ও নয়ন ব্যানার্জী ৪নং সেকশনের মেইন রাস্তার পাশের ছড়ার কিনারে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে তা বনমালী বোনার্জীর লাশ হিসেবে সনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের দিন পুলিশ একটি রক্তমাখা ছুরি ও জুতা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর থানায় হত্যা মামলা (নং-২৯) দায়ের হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান বনমালী বোনার্জী খুনের ঘটনায় মূল হত্যাকারী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন