কাষ্টঘরে ব্যবসায়ী-হরিজন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কাষ্টঘর ব্যবসায়ী ও হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ছবি: আমির হোসেন সাগর

কাষ্টঘর ব্যবসায়ী ও হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ছবি: আমির হোসেন সাগর

সিলেটের সকাল : সিলেট নগরীর কাষ্টঘর ব্যবসায়ী ও হরিজন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় একপক্ষ অন্যপক্ষের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে খবর পেয়ে এলাকা থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন মহাজনপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীরা।

এই দাবিতে বৃহস্পতিবার তাঁরা দোকান বন্ধ রেখে আধাবেলা ধর্মঘট পালন করেন। একইসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট সিটি করপোরেশনকে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।

এর আগে ব্যবসায়ী ও হরিজনদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাষ্টঘর এলাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা অবাদে মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত, মাতাল হয়ে তারা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এই এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

তবে হরিজন সম্প্রদায়ের একাধিক বাসিন্দা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের জায়গা দখলের জন্যই ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদের দাবি তুলেছেন।

IMG_20151112_112658

ব্যবসায়ীরা জানান, কাষ্টঘর এলাকায় অবাদে মাদকের হাট করে তুলেছে হরিজনরা। প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে এই এলাকা মাতালদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। ব্যবসার পরিবেশ থাকে না। মাতালরা ক্রেতা-ব্যবসায়ীদেরও হেনস্তা করে। এছাড়া হরিজন সম্প্রদায়র পরিচ্ছনাতা কর্মীরাও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও ব্যবসায়ীদের উপর হামলা চালায়।

এসব ঘটনার জের ধরে বুধবার ব্যবসায়ী ও হরিজনদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সংঘর্ষের প্রতিবাদে বহস্পতিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন ব্যবসায়ীরা। এসময় মহাজনপট্টি সড়ক অবরোধও করেন ব্যবসায়য়ীরা। অবরোধকালে ব্যবসায়ীদের কাষ্টঘরে হরিজন পল্লী লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে দেখা যায়।

ধর্মঘট শেষে ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে মহাজনপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা পরিমল দত্ত পাপ্পু বলেন, আমরা হরিজন সম্প্রদায়কে কাষ্টঘর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। উচ্ছেদের পূর্ব পর্যন্ত এই এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। অন্যথয় শরিবার থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো।

শেয়ার করুন