কানাইঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

j.jpgকানাইঘাট সংবাদদাতা : কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাউকেরগুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। এতে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সন্তানদের সেখানে পড়তে পাঠাতেও অনেকের মধ্যে দ্বিধা ও আস্থাহীনতা কাজ করছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও বন্যার পর ভবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ী অঞ্চল হিসাবে পরিচিত ডাউকেরগুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর সরকারি অর্থায়নে
চার কক্ষ বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নি¤œমানের কাজ হওয়ার ফলে কয়েক বছর যেতে না যেতেই ভবনটির একাধিক স্থানে ফাটলের পাশাপাশি প্লাস্টার উটে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কয়েক দফা ভূমিকম্প ও পলায়নকারী বন্যা হওয়ার ফলে ভবনটির ফাটল আরো মারাত্মক আকার ধারন করায় বর্তমানে একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা অপরদিকে ছাদ ফাটলের কারনে অফিস কক্ষে পানি পড়ে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে স্কুলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
সরেজমিনে স্কুল ঘুরে দেখা যায়, অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনটি। নেই কোন সীমানা প্রাচীর ও ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসার ভালো রাস্তা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে নৌকায় করে আসতে হয় কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। সীমান্তবর্তী পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ার ফলে নেই কোন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করাতে পারছেন না। ভবনটি ঘুরে দেখা যায় অতি নি¤œমানের কাজ করার ফলে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাঁটল দেখা দিয়েছে, উঠে গেছে প্লাস্টার। শ্রেণিকক্ষের ফ্লোরগুলোতে গত কয়েকবারের বন্যার পানি ঢুকে গিয়ে ঢালাই ফেটে ও ভেঙে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। আর ভূমিকম্প হওয়ায় ফাঁটল আরো মারাত্মক আকার ধারন করায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এমনিতেই উপজেলার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় দরিদ্র পীড়িত ও সীমান্তবর্তী ডাউকেরগুল এলাকার শিশুরা পিছিয়ে রয়েছে। আশপাশ এলাকায় রয়েছে দু’টি কওমি মাদ্রাসা। যার ফলে স্কুল মুখী হচ্ছেনা শিশুরা। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলটির ভবন সংস্কার অথবা নতুন একটি একাডেমীক ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। স্কুলের সৌন্দর্য্য বর্ধন, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য মাঠ ভরাট, যাতায়াতের জন্য রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও বিদ্যুতের ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে ছাত্র/ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন