আল-হামরায় স্বর্ণ দোকানে নারীচক্রের হানা : মিশন দুই মিনিট চার সেকেন্ড!

c-1

স্বর্ণের কৌটা নিচ্ছেন চুরির মিশনে অংশ নেওয়া নারী।

নোমান বিন আরমান : সিলেট নগরীর অভিজাত শপিংমল আল-হামরার গোল্ড গার্ডেন থেকে ২০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে চম্পট দেওয়ার সেই সিসিটিভি ফুটেজ সিলেটের সকালের হাতে এসেছে। এতে স্বর্ণ চুরির বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। চার নারীর ছবিই ভিডিও ফুটেছে ভেসেছে। কীভাবে চুরি হচ্ছে সেই দৃশ্যও নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। কিন্তু দুই দিনেও এই নারীদের সন্ধান বের করতে পারেনি পুলিশ। দোকানের মালিকও কোনো অভিযোগ করেননি থানায়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন নারী দোকানের ম্যানেজার ও দুই বিক্রয়কর্মীকে ব্যস্ত রাখছেন। অপর একজন চেয়ারে বসে আছেন। শাড়ি পরা মধ্যবয়সী এই নারীই সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ লুকিয়ে ফেলেছেন। অন্যদের মধ্যে পিংক কালারের থ্রি-পিস পরা বাইশ-তেইশ বছরের এক তরুণী। বাকি দুজন বোরকা ও স্কার্ফ পরা। বোরকা পরা নারীরা দোকানের এক বিক্রয় কর্মীকে ব্যবস্ত রাখেন। আর তরুণী অপর দুজনকে নিয়ে স্বর্ণ দেখার ছল করছিলেন। এই তিন নারী যখন দোকানের তিনজনকে নিয়ে ব্যস্ত তখন চেয়ারে বসা নারী সবার অগোচরে স্বর্ণ সরিয়ে ফেলেন। খুব সহজে যে তিনি কাজটি করেছেন, এমন না। ডয়ার থেকে উঁকি দিয়ে, ঝুঁকে পরে তাকে স্বর্ণ আনতে হয়েছে। এই কাজটি তিনি এতই তড়িত আর নিখুঁতভাবে করেছেন, কেউই তা টের পাননি। চার নারীর এই অভিনব পন্থায় স্বর্ণচুরির কাজটি সেরেছেন দুই মিনিট চার সেকেন্ডে।

স্বর্ণ চুরির আগ মুহূর্ত। ম্যানেজার ও বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ত রাখছেন তিন নারী। মূলহোতা (লালবৃত্ত) বসে আছেন চেয়ারে।

স্বর্ণ চুরির আগ মুহূর্ত। ম্যানেজার ও বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ত রাখছেন তিন নারী। মূলহোতা (লালবৃত্ত) বসে আছেন চেয়ারে।

এই বিষয়ে বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে কাউকে আটক করতে পারেনি। এই ব্যাপারে গোল্ড গার্ডেনের মালিক মালিক আয়াতুল ইসলাম খানের শ্যালক মাসুক মিয়া জানান, তারা জিডি করার দরকার মনে করছেন না।
সিলেট কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি) নুরুল হুদা আশরাফ জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তের পরই বেরিয়ে আসবে এই নারী কারা। এখনও পর্যন্ত তাদের আটক বা শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে আল-হামরার চতুর্থ তলায় অবস্থিত গোল্ড গার্ডেনে গেলে এর মালিক মালিক আয়াতুল ইসলাম খানের শ্যালক মাসুক মিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে তাদের দোকানে প্রথমে দু’জন নারী আসেন। তারা স্বর্ণালঙ্কার দেখার সময়ই মিনিট কয়েকপর আরও দু’জন নারী আসেন। তখন দোকানে ম্যানেজার অশোক কুমার শাহ এবং মাহতাব আহমদ ও কবির আহমদ ছিলেন। প্রথম দুই নারী স্বর্ণালঙ্কার দেখার ছলে বিক্রিয় কর্মীদের ব্যস্ত করে রাখেন। তারা বিভিন্ন ধরণের স্বর্ণালঙ্কার প্রথমে দেখেন। ওগুলোর পর আরও স্বর্ণ তারা দেখতে চান। তখন আগের দেখানো স্বর্ণগুলোর কৌটা একপাশে রেখে নতুন করে তাদের আরও স্বর্ণ দেখাতে শুরু করেন বিক্রয়কর্মীরা। এই ফাঁকে পরবর্তীতে আসা দুই নারীর একজন পাশে রাখা স্বর্ণের কৌটা সরিয়ে ফেলেন। তারপর স্বর্ণ পছন্দ হয়নি বলে একে একে চার নারীর দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েন।

মিশন (!) শেষে বেরিয়ে যাচ্ছেন তরুণী। ঠোঁটে অর্থপূর্ণ হাসি।

মিশন (!) শেষে বেরিয়ে যাচ্ছেন তরুণী। ঠোঁটে অর্থপূর্ণ হাসি।

মাসুক মিয়া জানালেন, প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণ খোয়া গিয়েছে। ব্যাপারটি তাদের কারও নজরেই আসেনি। নারীরা চলে যাবার পর স্বর্ণ ঘুচাতে গিয়ে দেখেন একটি কৌটা পাচ্ছেন না। তখন তারা দিনদুপুরে পুকুর চুরির বিষয়টি ধরতে পারেন। ততণে ওই নারীরা উধাও হয়ে গেছেন। তাৎণিক দোকানের সিসি ক্যামেরা পরীা করে ওই চার নারীর অভিনব কৌশলে স্বর্ণ নিয়ে চম্পট দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। দেখা যায়, চার নারীদের একজন স্বর্ণের ওই কৌটাটি তার শাড়ির ভেতর ঢোকাচ্ছেন। তারপর সেটি পেটের ওপর যতœ করে রেখে দিয়েছেন। তাৎণিক বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয় বলে তিনি জানান।
এই ব্যাপারে মঙ্গলবার সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। তবে ওই দোকান কর্তৃপ এখনো তাদের কিছু জানায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে- এমন খবরে তিনি বলেন, আমি ওসি, জানলে তো আমার জানার কথা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমত উল্লাহ (মিডিয়া) মঙ্গলবার জানান, ব্যাপারটি তারা অবগত হয়েছেন। কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

শেয়ার করুন