আজ থেকে টানা বিচারকাজ শুরু

Abu-Saed-Photo-7.11.5সিলেটের সকাল : শিশু আবু সাঈদ (৯) হত্যা মামলার বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটানা বিচার-কার্যক্রম আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মামলার প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের দিন সাঈদের বাবা, মামাসহ পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আজ সাক্ষ্য গ্রহণের দ্বিতীয় দিন ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা করতে সাঈদের বাবার নিয়োগ করা আইনজীবী আনসারুজ্জামান বলেন, এ সপ্তাহের রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যসূচির মধ্যে সাঈদ হত্যা মামলা রয়েছে।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আলোচিত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার মতো দ্রুতই এ মামলা নিষ্পত্তি হবে জানিয়ে আইনজীবী আনসারুজ্জামান আরও বলেন, মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে চারজনই কারাবন্দী। এর মধ্যে তিনজন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ জন্য বিচার-প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মামলায় মোট সাক্ষী ৩৭ জন। এর মধ্যে মামলার বাদী শিশু সাঈদের বাবা মতিন মিয়াসহ পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর গুরুত্বপূর্ণ ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য আজ নেওয়া হবে। এরপর দুই দিনে আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী হাকিমসহ সাঈদের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী চিকিৎসক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করা হবে। এরপরই রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করবেন আদালত।

প্রসঙ্গত, নগরীর শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রায়নগরের দর্জিবন্ধ এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদকে গত ১১ মার্চ অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমানসহ জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এন ইসলাম ওরফে রাকীব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত ‘তথ্যদাতা’ আতাউর রহমান ওরফে গেদা গ্রেপ্তার হন। এ তিনজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পলাতক ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মহি হোসেন ওরফে মাসুম ১০ নভেম্বর মাসুম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

শেয়ার করুন