আজ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা

45620_503518809725032_1537149867_nসিলেটের সকাল ডেস্ক : আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন। পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি। বৌদ্ধধর্ম মতে প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধির ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে দেশের প্রতিটি বিহারে শুরু হবে পবিত্র কঠিন চীবর দানোৎসব। এ ছাড়া এ উপলক্ষে প্রভাত ফেরি, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, শীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজাসহ  দিনশেষে সন্ধ্যা থেকে তীথির মূল আকর্ষণ পবিত্র ফানুস উড়ানো উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধের চুল আকাশে ভেসে যাওয়ার ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে ফানুস বাতি উড়িয়ে পূজো করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা  টানা তিন মাস (আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা)  বৌদ্ধ বিহারের কুঠিরে বসবাস করে ধ্যান সাধনা করেন। এই তিন মাস সাধনাকে বর্ষাবাস নামে অভিহিত করা হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমায় বর্ষাবাস সমাপনের আনুষ্ঠানিকতাকেই বলা হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মমতে এই পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজ কৃত অপরাধ বা পাপ স্বীকার করে পরিশুদ্ধ হন। ফলে এটি প্রবারণা পূর্ণিমা নামে খ্যাত।
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ মন্দির ও বিহারগুলোতে পূজা-পার্বণ, প্রদীপ প্রজ্বলন, ফানুস উড়ানোসহ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক নানান কর্মসূচি পালিত হবে। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে। এই তিথিতে বিহার গৃহশীর্ষে আকাশ প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং বুদ্ধমূর্তির সামনে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। এই দিনে নবীনেরা প্রবীণদের প্রনাম করে, প্রবীণেরাও নবীনদের আশীর্বাদ করেন।

শেয়ার করুন