হালির হাওড়ে পাউবোর বাঁধ কেটে ফেলছে দুর্বৃত্তরা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: জামালগঞ্জের হালির হাওড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ কেটে ফেলছে এক দল দুর্বৃত্ত। অথচ, এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৩৮.৭৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনে রয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমি। ছোট বড় ১৩টি হাওড়ের মধ্যে হালির হাওড় দ্বিতীয় বৃহত্তম। সেখানে রয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমি। বেহেলী ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়নের এক ফসলি বোরো ধান ফলনের একমাত্র স্থান। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয় আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ ও বেড়িবাধ নির্মান করে এই ফসল রক্ষার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। হালির হাওড়ে সম্প্রতি পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্মিত বাঁধ হাওরিয়া আলীপুর ও রাজধরপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাঁধ ও ক্লোজার কেটে মাছ আহরন করছে উভয় গ্রামের লোকজন। কিছু সংখ্যক স্বার্থন্বেশী লোক সরকারের বৃহৎ ক্ষতিসাধন করছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। এই আলীপুর গ্রামে বাঁধ কেটে ৭টি খাল খনন করে মাছ ধরছে দুর্বৃত্তরা।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে জানা যায়, এই দুর্বৃত্তদের নাম কেহ বলতে সাহস করে না। এই ক্ষতির দায়ভার কেউ স্বীকার করেনা। মাছ ধরার উপকরণ পাওয়া গেলেও একটি চক্র আরেকটি চক্রকে দায়ী করছে। অপরদিকে আছানপুর গ্রামের পশ্চিমে পাউবোর বাঁধ নামে খ্যাত বাঁধটি কেটে মসজিদের নাম ধরে খাল কেটে মাছ আহরন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। পাশাপাশি হেরারকান্দি নামক বৃহৎ বাঁধের মাটি এনে আছানপুর গ্রামে নিজ বসতভিটা তৈরী করছে জনৈক ব্যক্তিরা। সরকারের এই বৃহৎ ক্ষতির কারণ অনুসন্ধানে দায়িত্ব পালন করছে না স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধি। তারা নীরবতা পালন করছেন। সরকার ঐ বাঁধগুলো ১০টি প্রকল্প এই হাওড়ে প্রতি বছর হাওড় রক্ষা বাধের জন্য কোটি টাকার উপরে অর্থ ব্যয় করে থাকে।

লীপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুরুব্বী জানান, পাউবোর লোকেরা বাঁধ ভাঙ্গিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য দুর্বৃত্তদের দ্বারা সৃষ্টি করা এই খাল খননের উপর কোন এ্যাকশন নেই নাই।

এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন- তাদেরকে বাধা নিষেধ দিলেও কখন কিভাবে এই ক্ষতি কাজ করে তা জানি না। আছানপুরের বাঁধ ও আলীপুরের বাঁধ এই গ্রামের লোক ছাড়া অন্য কেউ খাল খনন করতে আসেনা। এগুলো অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবো।

শেয়ার করুন