সৌদি সংস্থার সহায়তায় নর্থইস্টে ফ্রি চক্ষুসেবা

Sylhet pic-1 copy

সিলেটের সকাল ডেস্ক : ‘বাবারে আমি আগে ছউকে বালা মত দেখতাম না। টেখার অভাবে ডাখতারিও খরাইতাম ফারছিলাম না। হউ দিন হুনলাম নর্থইস্টও টেখা ছাড়া ডাখতার দেখাইতাম ফারমু। এর লাগি আইজ বিয়ান থাকি লাইনও দাঁড়াইছি।’ নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সৌদি সংস্থার সহায়তায় ফ্রি চক্ষুসেবা নিতে এসে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার আব্দুল হেকিম মিয়া। প্রচন্ড ভীড়ের কারণে তিন ঘন্টা পর তিনি সিরিয়াল পেয়েছেন বলে জানালেন।

হেকিম মিয়ার মত চোখের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এমন প্রায় ছয় হাজার লোককে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে সৌদি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ও সংস্থা পরিচালিত মক্কা চক্ষু হাসপাতাল। চোখের আলোয় দীপ্ত হয়েছে তারা। পেয়েছেন রোগ থেকে মুক্তি।

শুক্রবার দক্ষিণ সুরমাস্থ নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পাঁচ শ’ জনকে ছানি অপারেশন ও লেন্স স্থাপনের জন্যে বাছাই করা হয়। তাদেরকে সংস্থার খরচে সপ্তাহব্যাপী সেবা প্রদান করবেন সংস্থা পরিচালিত ঢাকাস্থ মক্কা চক্ষু হাসপাতালসহ অন্যান্য  চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। অন্যদের তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূেেল্য ঔষধ, চশমা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।

সংস্থার হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান খোশনবিশ এর উপস্থাপনায় ও আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. আহমেদ তাহের আল-মিম্বারি সভাপতিত্বে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের প্রা.লি. এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আফজাল মিয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, অধ্যক্ষ ডা. মো. নূরুল আম্বিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. সামসুল আলম হেলাল, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইএইচ মজুমদার প্রমূখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, সিলেট, বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের অমূল্য সম্পদ। যিনি চোখ মেলে দেখতে পান না, তিনিই জানেন দেখতে না পারার বেদনা কত গভীর। অর্থাভাবে অনেকে চোখের অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেন না উল্লেখ করে তারা বলেন, মানুষকে অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে সৌদি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ও সংস্থা পরিচালিত মক্কা চক্ষু হাসপাতাল ফ্রি সেবা প্রদানের মাধ্যমে যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তা অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অঞ্চলের মহাপরিচালক ড. আহমাদ তাহির আল-মিম্বারি বলেন, আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪৮ টি দেশে অন্ধত্ব নিবারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বতঃস্ফূত সাড়া দেওয়ায় তিনি সিলেটবাসী ও সংশ্লিষ্ট ডাক্তারসহ সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। জবাবে নর্থইস্টের চেয়ারম্যান ও এমডি আল-বাশার ইন্টারন্যাশনালকেও এই উদ্যোগের জন্যে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার করুন