সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় সিলেটে নাগরিকবন্ধন

Sylhet Photo-22,Dt,14.12.14

সিলেটের সকাল ডেস্ক : সুন্দরবনের শেলা নদীতে ফার্নেশ তেলবাহী ট্যাঙ্গার ডুবি ও তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেল ৩টা৩০ মিনিটে, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সম্মুখে সংক্ষুব্ধ নাগরিকবন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, ভূমিসন্তান বাংলাদেশ ও প্রাধিকার। এছাড়াও এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রি দল বাসদ, সিলেট জেলা; বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা; প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেট, সিলেট কল্যান সংস্থা, সিলেট সাহিত্য ফোরাম সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ এর সমন্বয়কারী প্রণবজ্যোতি পাল এর সঞ্চালনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আল আজাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, ভূমিসন্তান বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর, ভূমিসন্তান বাংলাদেশ এর সংগঠক বিপ্লব দেব, প্রাধিকার এর সাধারণ সম্পাদক আজিম হোসেন অভি, দৈনিক যুগভেরীর নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব শর্মা, প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেট এর সভাপতি অনামিকা রায়, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর, সিলেট কল্যান সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক তাহের, ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর সভাপতি পাপ্পু চন্দ ও সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়ন এর সভাপতি পাপলু বাঙালি।

গত ৯ ডিসেম্বর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজভুক্ত ও বাংলাদেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের শেলা নদীর চাঁদপাই রেঞ্জে ফার্নেশ তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কার নিমজ্জিত হলে তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনের প্রায় এক লাখ হেক্টর অঞ্চলে। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক স্বাভাবিক অবস্থা ও ভারসাম্যহীন হয়ে যায় প্রাণীকুল। এ ঘটনার পর ৫ দিন কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত বন বিভাগ তথা সরকার কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।

এ বিপর্যয়মূখী অবস্থার প্রতিবাদে রবিবার এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষনা করে উক্ত চারটি সংগঠন। তারা ও অংশগ্রহনকারী অন্যান্য সংগঠন এ বিপর্যয়কে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে অত্যাধুনিক প্রক্রিয়ায় সুন্দরবনের এ অঞ্চল থেকে তেল অপসারণের দাবি জানান। তাছাড়া ইউনেস্কোর নিষেধাজ্ঞা ও সুন্দরবন বিভাগের বারবার চিঠি প্রদান সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিএ কেনো এ রুটে নৌচলাচল বন্ধ করছে না তা তদন্ত করারও দাবি জানানো হয়। এছাড়া এ রুটে নৌ চলাচল বন্ধে পরিবেশবাদীদের দীর্ঘ আন্দোলনকেও কেনো সরকার আমলে নিচ্ছে না তার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। এছাড়াও পরিবেশবাদীদের রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সহ সুন্দরবন রক্ষার অন্যান্য সকল আন্দোলনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে এ ধরণের প্রাকৃতির বিপর্যয়ের সম্মুখীন আবারো হতে হবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

শেয়ার করুন