আব্দুল আলী হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদসম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন গৌখালেরপাড়ের হোছনা বেগম

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদসম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন গৌখালেরপাড়ের হোছনা বেগম

কোম্পানীগঞ্জে যুবলীগ নেতা আব্দুল আলী হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন গৌখালেরপাড় গ্রামের সত্তার আলীর স্ত্রী হোছনা বেগম। তিনি বলেন, আব্দুল আলীর ভাই আব্দুল হক, সন্ত্রাসী সালাম ও সোনা মিয়ার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীর উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হোছনা বেগম এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের হাতে আব্দুল আলী খুন হন। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে যখন এলাকার মানুষ সোচ্চার। ঠিক সেই সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচণায় আমার আত্মীয় স্বজনসহ গ্রামের নিরপরাধ কয়েকজনসহ ৩১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে সাধারণ ও নিরীহ গ্রামবাসী গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এ সুযোগে আব্দুল আলীর ভাই আব্দুল হক তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে গৌখালেরপাড় গ্রামে একাধিকবার সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে। তাদের তান্ডবে পুরো গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ঘরবাড়ি। অজ্ঞাত কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও গ্রামবাসীর সাহায্যে এগিয়ে আসছে না।

তিনি বলেন, আব্দুল হক ও সন্ত্রাসী সালামের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রামের দুইটি বিলে হানা দিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছ, তিনটি সেচ মেশিন, তিনটি জেনারেটর ও জালসহ কয়েক লক্ষ টাকার সরঞ্জামাদি লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়িঘরে হানা দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট, ৮১টি গরুসহ প্রায় ৪০ লক্ষাধি টাকার মালামাল নিয়ে যায়। গত ১৯ নভেম্বর রাতে হক বাহিনী পুরো গ্রামে নারকিয় তান্ডব চালায়। জ্বালানী তেল ও ডিজেল নিয়ে পুরুষ শূন্য গ্রামে অগ্নিসংযোগের মহোৎসব করে তারা। অনেকগুলো বসতঘর পুড়িয়ে ভস্মিভূত করে দেয়। তাদের আগুনের লেলিহান শিখায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে হাঁস, মোরগ, ছাগল ভেড়াসহ শতাধিক গৃহপালিত পশুর করুণ মৃত্যু ঘটে। এসব নারকিয় তান্ডবের পরও পুলিশ আমাদের জানমালের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসেনি। উপরোন্ত মামলা দিতে গেলে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে আমাদেরকে তাড়িয়ে দেন। অবশেষ বাধ্য হয়ে আমি হোছনা বেগম, গ্রামের জুবেদা খাতুন ও আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ নভেম্বর সিলেটের ৪নং আমলগ্রহনকারী কোম্পানীগঞ্জ আদালতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাগুলো রেকর্ড করতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে সন্ত্রাসী আব্দুল হক ও সালামসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

শেয়ার করুন