বিশ্বনাথে ধর্ষণ মামলার বাদি ও স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা

imagesপিপপপবিশ্বনাথ সংবাদদাতা :: বিশ্বনাথে ধর্ষণ মামলার বাদি ও স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা দায়েরে নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। মামলার বাদি ও পুলিশ ছাড়া এলাকার কেউই ওই ছিনতাইয়ের ঘটনা জানেনা বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি বড় অংকের টাকার বিনিময়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সাজানো এ অভিযোগটি থানা পুলিশ আমলে নিয়েছে।

গত ১০ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেন দেওকলস ইউনিয়নের সাহবাজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের ছেলে আসিক আলী, (মামলা নং ৪)। মামলায় ইউনিয়ন আ’লীগের যুুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আক্তার হোসেন জুনেদকে (৪৫) প্রধান আসামিসহ আরও ৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।এরা হলেন, সাবাজপুর গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে মছব্বির আলী (৩৫), বশর মিয়া (৩০), একই গ্রামের ছমরু মিয়ার ছেলে এখলাছ মিয়া (৩২), সুহেল মিয়া (২৮), ফজল মিয়া (২৬)। এছাড়া ওই মামলায় অজ্ঞাত রাখা হয়েছে আরো ২/৩জনকে।

এদিকে মামলা পাল্টা মামলা দায়ের নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্বনাথ থেকে বাড়ি ফেরার পথে জগতপুর গ্রামের হাছন আলীর বাড়ির পিছনের রাস্তায় গেলে বাদি আসিক আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমকে মারপিঠ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় আসামীরা। এসময় বিবাদীগনের হামলায় আহত হন রহিমা বেগম। এঘটনার পরদিন আসিক আলী বিশ্বনাথ থানায় এ ছিনতাই মামলাটি দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর আগের একটি ধর্ষণ মামলা নিয়ে আসিক আলীর সঙ্গে আ’লীগ নেতা আক্তার হোসেন জুনেদ ও মছব্বির আলী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দুই বছর পূর্বে আসিক আলীর ছেলে জয়নাল একই গ্রামের মছব্বির আলীর মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মছব্বির আলী ২০১২ সালের ১জানুয়ারি আসিক আলীর ছেলে জয়নালকে প্রধান আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, মামলার জিআর নং ২৩৪/১২। ওই মামলায় স্বাক্ষী ছিলেন আ’লীগ নেতা জুনেদ। ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘদিন হাজত বাসের পর জয়নাল সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে মাকে পিটিয়ে আহত করে ধর্ষণ মামলার বাদি ও স্বাক্ষীকে অভিযুক্ত করে সাজানো ছিনতাই মামলা দায়ের করেছেন বলে এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন জানিয়েছেন।

ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তি বাড়ির শাইস্তা মিয়া, সুরুজ আলী, জগতপুর গ্রামের ছুনু মিয়া চৌধুরী, আলী হোসেন, নিয়ামতপুর গ্রামের আবুল কালাম, সাহবাজ পুরের ব্যবসায়ী আলফু মিয়া, আব্দুল মতিন, মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ছিনতাইয়ের এ ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর পুলিশ ও বাদির কাছ থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগটি তারা শুনেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দেওয়ায় আসিক আলী বড় অংকের টাকার বিনিময়ে থানায় এ মিথ্যা ছিনতাই মামলা দায়ের করেছেন।

ছিনতাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান এলাকাবাসীর এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

শেয়ার করুন