বিশ্বনাথে কিশোরীকে গণ-ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের

imagesপিপপপবিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে এমদাদুর রহমান মিলাদ : সিলেটের বিশ্বনাথে পনের বছরের এক কিশোরীকে গণ-ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। এঘটনায় ওই ধর্ষিতা কিশোরীর ভগ্নিপতি ও ছাতক উপজেলার টেংগার গাও গ্রামের আইন উদ্দিন বাদি হয়ে ২জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৩জনকে আসামী করে শুক্রবার বিশ্বনাথ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৭।

মামলার অভিযুক্তরা হলো- উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে সাজ্জাদ (২২) ও একই গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪)।

দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদি আইন উদ্দিনের বাড়িতে তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে তার শালিকা তাহমিনা বেগম (ছদ্ধ নাম) আসে। গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আইন উদ্দিন শালিকাকে নিয়ে তার শশুর বাড়ি চাঁদপুর জেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। চাঁদপুরের বাস না পাওয়ায় ওই দিন রাতে আইন উদ্দিন শালিকাকে সাথে নিয়ে তার বোনের বাড়ি বিশ্বনাথের রসুলপুর গ্রামের জুনু মিয়ার বাড়িতে চলে আসনে। এরপর রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বোনের শ্বাশুড়ী ও ননদসহ শালিকা তাহমিনা একই বিচানায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং আইন উদ্দিন তার ভগ্নিপতি জুনু মিয়ার সাথে বাড়ির সামনে টং দোকানে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত অনুমান ২টায় তাহমিনার চিৎকার শুনে আইন উদ্দিন ও তার ভগ্নিপতি দৌঁড়ে এসে বাড়িতে দেখতে পান ঘরের দরজা ভাঙ্গা শালিকা তাহমিনা ঘরে নেই খাটের পার্শ্বে জখমী অবস্থায় পড়ে আছেন বোনের শ্বাশুড়ী।

এসময় তারা জানতে পারে অভিযুক্ত সাজ্জাদ ও আব্দুল্লাহ জোরপূর্বক তাহমিনাকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর ভোর বেলায় সুরমা নদীর পারে অচেতন অবস্থায় তাহমিনা বেগমকে উদ্ধার করা হয় এবং গ্রামবাসীর পরামর্শে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি’তে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাহমিনা জানায়, অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে সুরমা নদীর পাড়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এরপর গত ১০ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি থেকে একটি লিখিত অভিযোগ (স্মারক নং ৪৯৪) বিশ্বনাথ থানায় প্রেরণ করা হলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীদের রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে একটি মহল। আসামীদের বাঁচাতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পুলিশের সাথে দফারফা চলছে বলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের কাউকেই এখনো গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানা এসআই দিলোয়ার বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির জন্য আমি গিয়েছিলাম। বাদি পক্ষ তা না মানায় আমি চলে আসি। এরপর ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে আমি শুনেছি।

শেয়ার করুন